
১৯৭২ সালের ২০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৮.৩৯ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের গোপালগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করেন। তখন এটি তৃতীয় শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে গণ্য হতো। ১৯৮৯ সালে এটিকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়। ১৯৯৬ সালের ১০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জকে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত করেন। বর্তমানে এর আয়তন ১৩.৮২ বর্গ কিলোমিটার ও জনসংখ্যা সংখ্যা ১ লাখ ১৪ হাজার ৯৫০ জন।
এই পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র লিয়াকত আলী লেকু পৌরসভাটির সার্বিক আধুনিকীকরণ চান। পৌরবাসীদের জন্য নিশ্চিত করতে চান সর্বোচ্চ নাগরিক সুবিধা। আওয়ামী লীগ মনোনীত এ মেয়র সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বাংলা ট্রিবিউনের মুখোমুখি হন। পৌরসভাকে ঘিরে তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও সম্ভাবনাময় দিকগুলোর কথা তুলে এনেছেন মনোজ কুমার সাহা।
নির্বাচনের সময় রাস্তাঘাট, পয়ঃনিষ্কাশন, শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত মধুমতি লেক সংরক্ষণ ও শিশুদের জন্য বিনোদন পার্ক গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
মেয়র: সরকারের সহায়তা নিয়ে পিছিয়ে পড়া গোপালগঞ্জ পৌরসভাকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। আমি আমার মেধা ও শ্রমকে যুগলবন্দি করে সততার সঙ্গে কাজ করবো। এ পৌরসভাকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় শামিল করে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে দাঁড় করাবো।
এই মুহূর্তে পৌরসভার সবচেয়ে বড় সমস্যা কি?
মেয়র: সমস্যার শেষ নেই। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শহরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত মধুমতি লেকের সংস্কার। এটা আবর্জনাপূর্ণ নর্দমায় পরিণত হয়েছে। শোচনীয়ভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। আমি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে লেকটিকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেবো।
পৌরসভার উন্নয়নে ফিবছর সরকারি বাজেট কতটা কাজে আসে?
মেয়র: এ বিষয়ে আমার ধারণা এখনও নেই। তবে, অবকাঠামোর ক্ষেত্রে গুণগত মান নিশ্চিত করা হবে এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে কাজ বুঝে নিতে মনিটরিং জোরদার করা হবে। প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধায়নে পৌরসভার কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি মনিটরিং টিম গঠন করা হবে। কাজে কোনও ধরনের ফাঁক বরদাশত করা হবে না। রাস্তা নির্মাণের পর বছর ঘুরতেই যদি ভেঙে পড়ে তো ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্নীতি নিরসনে কী ধরনের পদক্ষেপ নেবেন?
মেয়র: দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে দ্রুত তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবো।
দরপত্র সংক্রান্ত সমস্যা নিরসনে কী পদক্ষেপ নেবেন?
মেয়র: দলীয় লোকজনকে কাজ দেওয়া হবে না। সেইসঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবে না অযোগ্যরাও। প্রকৃত ঠিকাদারকে কাজ দেব। তাদের কাছ থেকে শতভাগ কাজ বুঝে নেবো। কাজে ফাঁকি থাকলে বিল দেবো না।
পৌরসভার নাগরিকদের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন হবে আশা করেন?
মেয়র: গোপালগঞ্জ আওয়াম লীগের ঘাঁটি। এ ঘাঁটির মানুষ আমাকে মেয়র নির্বাচিত করেছেন। তাদের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আমি সবসময় সচেষ্ট থাকব। তাদের সব সমস্যার কথা শুনব, প্রয়োজনে তাদের পরামর্শ নেবো। পারস্পরিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নাগরিকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখব।
/এইচকে/এসটি/








