গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বিধ্বস্ত একটি সেতু পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন বেলকা, হরিপুর ও তারাপুর ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ। সুন্দরগঞ্জ-বেলকা সড়কের রামডাকুয়া সেতুটি পাঁচমাস আগে বিধ্বস্ত হয়। ফলে উপজেলা শহরের সঙ্গে ওই তিন ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ এলজিইডি কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে সুন্দরগঞ্জ-বেলকা সড়কের রামডাকুয়া এলাকায় মরা তিস্তা নদীর উপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। তখন থেকে এটি রামডাকুয়া সেতু হিসেবে পরিচিত। তৎকালীন জাতীয় পার্টির দলীয় সাংসদ কর্নেল (অব.) আব্দুল কাদের খানের প্রচেষ্টায় প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মিত হয়। কিন্তু গত বছরের ২৩ আগস্ট বন্যার পানির স্রোতে সেতুটি বিধ্বস্ত হয়ে এর কিছু অংশ ভেসে যায়।
ওই সময় উভয়পাশের সংযোগ সড়কও বিলীন হয়ে যায়। এরপর নৌকাযোগে চলাচল শুরু হয়। পরে স্থানীয় জনগনের উদ্যোগে ওই স্থানে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। কিন্তু পানি শুকিয়ে যাওয়ায় সাঁকোটি এখন কোন কাজে লাগছে না। এলাকার লোকজন সাঁকোর বাঁশ খুলে নিয়ে গেছে। বর্তমানে এই সড়কে কোনও যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।
উপজেলার হরিপুর ইউপি সদস্য বিদ্যুৎ কুমার বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বেলকা, হরিপুর ও তারাপুর ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ উপজেলা শহরে যাতায়াত করেন। কিন্তু সেতু বিধ্বস্ত হওয়ায় উপজেলা শহরের সঙ্গে তিনটি ইউনিয়নের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
তারাপুর ইউনিয়নের চরখোদ্দা গ্রামে কৃষক কাশেম মিয়া বলেন, ‘ভোটের আগোত সগলে বিরিজ (ব্রীজ) ভালোকরি দিব্যার চায়্যা ভোট নিছে। ভোটোত জেতার পর তাগোর আর চেহারা দেহা যায় না।’
বেলকা ইউনিয়নের নবাবগঞ্জ গ্রামের রিকসাচালক শহীদুল মিয়া বলেন, উপজেলা শহর থেকে আমার বাড়ি ১১ কিমি। প্রতিদিন বাড়ি থেকে শহরে আসি। সেতু ভেঙ্গে যাওয়ায় এখন শহরে ২০ টাকা ভাড়া দিয়ে গ্যারেজে রিকসা রেখে বাড়ি যেতে হচ্ছে।’
একই ইউনিয়নের মধ্যবেলকা গ্রামের স্কুলশিক্ষক আব্দুল জোব্বার মিয়া বলেন, সেতু ভেঙ্গে পড়ায় ওই সড়কে যানবাহন চলছে না। ফলে ৮ কিমি ঘুরে এসব এলাকার লোকজনকে উপজেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হচ্ছে। বিশেষত এলাকার ছাত্রছাত্রীরা উপজেলা শহরের স্কুল-কলেজে যেতে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সেতুটি নির্মাণের মতো অর্থ পৌরসভায় নেই। ফলে এই মুহূর্তে সেতুটি নির্মাণ কিংবা বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, সেতু মেরামতে অর্থ বরাদ্দ চেয়ে এলজিআরডি মন্ত্রনালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
এসব বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মুনছুর বলেন, আমি সদ্য এখানে যোগ দিয়েছি। সেতুটির কাজ যাতে দ্রুত বাস্তবায়ন হয় সে চেষ্টা করবো।
/আরএ/








