পশ্চিমা লঘুচাপ ও পূবালী বাতাসের সংমিশ্রণে গত বুধবার (২০ জানুয়ারি) বৃষ্টি হওয়ায় সারাদেশে কমে গেছে তাপমাত্রা, দেখা দিয়েছে শৈত্যপ্রবাহ। এতে সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উত্তরবঙ্গ অঞ্চলের মানুষেরা। অসহনীয় শীতের কারণে সেখানে শীতবস্ত্রের অভাবে নিম্ন আয়ের মানুষেরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। ব্যাহত হচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের কর্মকাণ্ড। বেড়েছে শীতজনিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব।
রংপুরে শৈত্যপ্রবাহের কারণে জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে জনপদ। রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে- শনিবার রংপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এবারের শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
ঘন কুয়াশার কারণে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। এদিকে প্রচণ্ড শীতের কারণে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে সহায়-সম্বলহীন হতদরিদ্র লোকজন। শীত বস্ত্রের অভাবে তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। এছাড়া শীতের কারণে কোল্ড-ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এ অঞ্চলে। এসব রোগে আক্রান্ত বেশির ভাগই শিশু ও বৃদ্ধ।
এদিকে কুড়িগ্রামে চলছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। গত তিনদিনে সেখানে সূর্যের দেখা মেলেনি। শনিবার সকাল থেকে একবারও দেখা মেলেনি সূর্যের। দিনে তাপমাত্রা সামান্য কমলেও রাতে ঘন কুয়াশার সঙ্গে বাড়ছে ঠাণ্ডা। ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে ভোগান্তি। সদর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী কুড়িগ্রামের তাপমাত্রা ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা গতকালের চেয়ে ১ ডিগ্রি হ্রাস পেয়েছে। প্রচণ্ড শীতের কারণে অনেকেই আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে ঠাণ্ডা ও কুয়াশার কারণে সদ্য রোপণ করা বোরো ক্ষেতসহ শীতকালীন সবজি ক্ষেতের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
ঠাকুরগাঁওয়ে তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশায় অচল হয়ে পড়েছে জনজীবন। ভর দুপুরেও সূর্যের আলোর দেখা না পাওয়ায় হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।
শনিবার সেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও জেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল সালাম জানিয়েছেন- সরকারের কাছে ৫০ হাজার কম্বল চাওয়া হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত কম্বল আসছে ১৭ হাজার ৭৯২টি যা চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য।
এদিকে শীতের প্রকোপে স্থবির হয়ে পড়েছে নীলফামারী জেলা অঞ্চলের জনজীবন। শনিবার সকালে নীলফামারীতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
প্রচণ্ড শীতে শ্রমজীবী মানুষ পড়েছে চরম দুর্ভোগে। শীতের দাপটে হাট-বাজার, রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকায় এক ধরনের নীরবতা নেমে এসেছে গোটা অঞ্চলে। গত বুধবার গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির পর থেকে নীলফামারীসহ এ অঞ্চলে শীতের প্রকট বৃদ্ধি পেতে থাকে।
শীতের কারণে এ জেলার মানুষের কোল্ড-ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, ২৪ ঘণ্টায় আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ সারাদেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এছাড়া রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
জানা যায়, মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।
এদিকে মাঘের শীত জেঁকে বসেছে গাইবান্ধায়। শীত বস্ত্রের অভাবে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন চরাঞ্চলের দুস্থ মানুষেরা। তীব্র শীতে শনিবার দিনমজুরেরা ফসলের মাঠে কাজে যেতে পারেননি।শহরে প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হননি। বেড়েছে শীতজনিত রোগবালাই।
শনিবার এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল শুক্রবার ছিল ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
জেলা সিভিল সার্জন নির্মলেন্দু চৌধুরী বলেন, গাইবান্ধা হাসপাতালে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে গত কয়েকদিন থেকে দিনে গড়ে ২০ থেকে ২২ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। এর মধ্যে শিশুই বেশি।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, চলতি বছর জেলার সাত উপজেলায় ৩১ হাজার ৫৭০টি কম্বল বিতরণ অব্যাহত আছে। আরও ১০ হাজার কম্বল চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গে আগামীকাল তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে। তবে এরপর তাপমাত্রা আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পাবে।
/এআর/এমপি/এএইচ/








