X
বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২
২৩ আষাঢ় ১৪২৯

ঘটনাস্থলে না থেকেও আসামি হয়ে কারাগারে ছেলে, অভিযোগ বাবার

আপডেট : ২৩ মে ২০২২, ১৬:৫০

সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলে না থাকলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় সোহান হাওলাদার নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা মামলার আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। গত ২০ মে ওই মামলায় ঢাকা থেকে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন তিনি।  সোহান শরীয়তপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও চিতলীয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মাস্টার হারুন অর রশিদ হাওলাদারের ছেলে। এ সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা-লুটপাট চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমরা আঙ্গারিয়ায় বসবাস করি। ঘটনা ঘটেছে মজুমদারকান্দি। তখন আমরা ছিলাম আঙ্গারিয়ায়। আমার ছেলে ঘটনাস্থলে ছিল না, সেটা সিসি ক্যামেরার ফুটেজেই দেখা যাচ্ছে। তাহলে সে এই মামলার প্রধান আসামি কী করে হয়? আমার নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য আমার ছেলেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রধান আসামি করা হয়েছে। আমার লোকজনের বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট করা হচ্ছে। নারীদের যৌন হয়রানি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা করেও কোনও প্রতিকার পাইনি। এ ছাড়াও আমার নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণাও করতে দেওয়া হচ্ছে না।’

স্থানীয়রা জানান, সদর উপজেলার চিতলীয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম হাওলাদার এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মাস্টার হারুন অর রশিদ হাওলাদারের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত। এরই জের ধরে গত ৩ মে ঈদের দিন দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে বহু লোক আহত হন। এ ঘটনায় কুদ্দুস ব্যাপারী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি মারাত্মক জখম হন। হাসপাতালে নিলে পরবর্তী সময়ে তিনি মারা যান। এ ঘটনার পরদিন নিহত কুদ্দুস ব্যাপারীর ছেলে লিটন ব্যাপারী বাদী হয়ে পালং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তিনি ওই মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হারুন হাওলাদারের ছেলে সোহান হাওলাদারকে প্রধান আসামি করে ৬৫ জনের নাম উল্লেখ করেন।

স্থানীয় সূত্রে ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জানা যায়, কুদ্দুস ব্যাপারী নিহত হওয়ার দিন সোহান আঙ্গারিয়া বাজারের মসজিদে নামাজ পড়ছিলেন।

সরেজমিন দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম হাওলাদারের লোকজন প্রতিপক্ষ হারুন হাওলাদারের লোকজনের বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট করছে। ঘটনার অনেক দিন পার হলেও এখনও এলাকা থমথমে। চলছে একপ্রকার অরাজকতা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত না হয়েও গণহারে আসামি করা হয়েছে। আসামি হওয়ার কারণে পুরুষ লোকরা গা ঢাকা দিয়েছেন। এ সুযোগে প্রতিপক্ষের লোকজন একের পর হামলা করে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হচ্ছে। এতে এলাকায় নজিরবিহীন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যেকোনও মুহূর্তে আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, গ্রাম পুরুষশূন্য হওয়ার সুযোগে হারুন হাওলাদারের সমর্থকদের বসতবাড়ি থেকে গবাদিপশু, স্বর্ণালঙ্কার, ফ্রিজ, টেলিভিশন, নগদ টাকা, আসবাবপত্র, গ্যাসের চুলা, সিলিন্ডার, ঢালাইমেশিন, মিকচার মেশিন, ভাইব্রেটর মেশিন, নছিমন, এমনকি ঘরের ব্যবহৃত থালাবাসন, চাল-ডাল লুট করে নিয়ে যান সালাম হাওলাদারের সমর্থকরা। প্রায় ৪০-৫০টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে সর্বস্ব লুট করে ট্রাক-পিকআপ ভরে নিয়ে গেছেন তারা।

চিতলিয়া ইউনিয়নের গ্রামপুলিশ মজুমদারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ুন চৌকিদার বলেন, ‘ঈদের নামাজ শেষ হতে না হতেই শুনি ইমাম হোসেন ব্যাপারীকে প্রতিপক্ষ মারপিট করেছে। এরপর রাস্তা এসে দেখি উভয় পক্ষ মুখোমুখি। আমি প্রথমে মারামারি থামানোর চেষ্টা করি। এরপর ব্যর্থ হয়ে থানায় বার বার ফোন করে পুলিশ পাঠানোর অনুরোধ করি। মারামারি থামাতে গিয়ে আমিও হত্যা মামলার আসামি হয়েছি। আমার আরও তিন ভাই ও ভাতিজাকে আসামি করা হয়েছে। আমাদের বাড়িতে লুটপাট করে সমস্ত জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। এখনও হুমকি-ধামকি দেওয়ার কারণে শত শত পুরুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।’

ওই এলাকার জাকির সরদারের স্ত্রী শেফালী বলেন, ‘ঈদের দিনের মারামারিকে কেন্দ্র করে আমার সর্বস্ব লুট করে নিয়ে গেছে সালাম হাওলাদারের লোকজন। তারা ঢাল, ছ্যান নিয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুট করেছে। ভয়ে আমি টয়লেটে পালিয়ে ছিলাম।’

জাহাঙ্গীর হাওলাদারের স্ত্রী রেণু বলেন, ‘পুরো বাড়ি ঘেরাও করে জালাল হাওলাদারের ছেলে জয় ঘরে ঢুকে আমার গলায় ছ্যান ধরে বলেছে, “ঘরে যা আছে ভালোয় ভালোয় দিয়ে দে, অন্যথায় জবাই করে দেবো।” ’

মনির সরদারের স্ত্রী মারিয়া আক্তার বলেন, ‘ফ্রিজ নিয়ে গেছে। আলমারি ভেঙে যা কিছু পাইছে সবকিছু নিয়ে গেছে। আবার বলে গেছে, সন্ধ্যার পর পিকআপ নিয়ে এসে বাকি যা আছে তাও নিয়ে যাবে। গনি সরদারের ছেলে আউয়াল, জাহাঙ্গীর সরদার তারা এসে সব নিয়ে গেছে।’

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, ৫০-৬০ জন লোক এসে হারুন হাওলাদারের সমর্থকদের বাড়িঘর লুট করে গরু-বাছুর, স্বর্ণালঙ্কার, ফ্রিজ, নগদ টাকাসহ গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। ভুক্তভোগীরা বলেন নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম হাওলাদার বলেন, ‘ঘটনাস্থলে সোহান হাওলাদার উপস্থিত ছিল। সেখান থেকে পুলিশ তাকে পিটিয়ে বের করে নিয়ে এসেছে। আমার কোনও লোকজন তাদের লোকজনের বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট করেনি। সব মিথ্যা কথা। আমরা হারুন হাওলাদারের নির্বাচনের প্রচারণায় কোনও বাধা দিইনি। আমি ঝগড়া পছন্দ করি না। আমি শান্তি চাই। নির্বাচনে যে ফলাফল আসুক সেটাই আমি মেনে নেবো।’

পালং মডেল থানার ওসি আকতার হোসেন জানান, এ ঘটনায় ৬৬ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মামলার প্রধান আসামি সোহানসহ ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে, কে দোষী আর কে নির্দোষ।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির সময়, ঘটনা বিশ্লেষণ করলেই সবকিছু  জানা যাবে। ঘটনাস্থলে কে ছিল।

/এমএএ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা পার হচ্ছে মোটরসাইকেল 
ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা পার হচ্ছে মোটরসাইকেল 
চার বছর পর এলো সুযোগ
চার বছর পর এলো সুযোগ
‘মলমপার্টি চক্রের’ ১৪ সদস্য গ্রেফতার
‘মলমপার্টি চক্রের’ ১৪ সদস্য গ্রেফতার
ঈদে গ্যাংস্টার পাপ্পি ভাইয়ের বিয়ে!
ঈদে গ্যাংস্টার পাপ্পি ভাইয়ের বিয়ে!
এ বিভাগের সর্বশেষ
ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা পার হচ্ছে মোটরসাইকেল 
ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা পার হচ্ছে মোটরসাইকেল 
‘এত দ্রুত ফেরিতে ওঠার সুযোগ পাবো ভাবিনি’
‘এত দ্রুত ফেরিতে ওঠার সুযোগ পাবো ভাবিনি’
যানবাহনের চাপ নেই পদ্মা সেতুতে
যানবাহনের চাপ নেই পদ্মা সেতুতে
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ২৫ কিলোমিটারে যানজট
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ২৫ কিলোমিটারে যানজট
ঈদযাত্রায় সড়কে প্রাণ গেলো ২ জনের
ঈদযাত্রায় সড়কে প্রাণ গেলো ২ জনের