রাবি অধ্যাপক ড. এস তাহের হত্যাকাণ্ড

১০ বছরেরও নিষ্পত্তি হয়নি মামলার

রাজশাহী প্রতিনিধি
০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ২০:৩৮আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ২০:৩৮

অধ্যাপক ড. এস তাহেররাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস তাহের হত্যাকাণ্ডের ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। এদিকে, হত্যা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক শোকসভায় এ দাবি জানানো হয়।
মঙ্গলবার বিভাগের সামনে থেকে একটি প্রতিবাদ র‌্যালি বের করে ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি রাতে অধ্যাপক ড. তাহের বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকার পশ্চিম ২৩/বি বাসা থেকে নিখোঁজ হন। পরে ৩ ফেব্রুয়ারি সকালে তার বাসার পেছনের সেফটিক ট্যাঙ্ক থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ড. তাহেরের বাসার কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীরকে আটক করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ৭ ফেব্রুয়ারি ড. তাহেরের সহকর্মী জামায়াতপন্থী শিক্ষক মিয়া মো. মহিউদ্দিনকে আটক করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ড. তাহেরের ছেলে সানজিদ আলভী রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানায় মামলা করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ১৮ মার্চ মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন উপ-পরিদর্শক আহসানুল কবির জামায়াতপন্থী শিক্ষক মিয়া মহিউদ্দিন ও তৎকালীন রাবি শিবির নেতা মাহবুবুল আলম সালেহীসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
পরে ২০০৭ সালের ৩ জুলাই রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার বিচার কাজ শুরু হয়। ২০০৮ সালের ২২ মে আদালত জামায়াতপন্থী শিক্ষক মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, বাড়ির কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর আলম, জাহাঙ্গীরের ভাই শিবির কর্মী আব্দুস সালাম, নাজমুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। অভিযোগপত্রের অন্য দুই আসামি তৎকালীন রাবি শিবির সভাপতি মাহবুবুল আলম সালেহী ও জাহাঙ্গীরের বাবা আজিমুদ্দিনকে বেকসুর খালাস দেন।এরপর ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য
হাইকোর্টে আসে। এছাড়া রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলও করেন আসামিরা। ৫ বছর পর ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মামলার আপিল শুনানি শুরু হয়। ওই বছরের ২১ এপ্রিল আপিলের রায়ে দুইজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে অন্য দুইজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগপত্রে উল্লিখিত আসামিদের দুইজন খালাস পেয়ে যাওয়ায় এবং দুইজনের সাজা কমানোয় ড. তাহেরের পরিবারের পক্ষ থেকে আবার উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়। কিন্তু ৩ বছর পার হয়ে গেলেও এখনও আপিলের নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে বিচারের রায় কার্যকরও সম্ভব হয়নি।
মামলার ব্যাপারে ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, ‘হাইকোর্টের বিচারের রায় দ্রুত নিষ্পত্তি এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে।’
/বিটি/টিএন/আপ-এআর/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম