নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের সম্পদের হিসাব যাচাই করতে সিদ্ধিরগঞ্জ পরিদর্শন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি দল। সোমবার দুদকের এই অনুসন্ধানী দলের সদস্যরা নূর হোসেন, তার স্ত্রী ও পরিবারের লোকজনের সম্পদের খোঁজ-খবর নেন।
দুই সদস্যের এই অনুসন্ধানী দলের প্রধান ছিলেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. জুলফিকার আলী ও সহকারী পরিচালক শফিউল্লাহ। সোমবার সকাল ১০টার দিকে তারা সিদ্ধিরগঞ্জে যান।
অনুসন্ধান চলাকালে তারা দুপুরে সাংবাদিকদের জানান,‘আমরা অনুসন্ধান করছি। এখনই সব বলা ঠিক হবে না। পরবর্তীতে আরও যাচাই বাছাই শেষে বিষয়গুলো জানানো হবে।’
সোমবার সকাল থেকে দুদকের অনুসন্ধানী দলটি নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জে নূর হোসেনের মালিকানাধীন বাড়ি ও বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। তারা সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে অবস্থিত নূর হোসেনের মালিকানাধীন হাজী বদরউদ্দিন মার্কেট, শিমরাইল টেকপাড়ার নূর হোসনের বাড়ি, নয়াআটির রসুলবাগের নূর হোসেনের স্ত্রীর নামে করা বাড়ি, মুক্তিনগর কিসমত মার্কেট এলাকায় তার বড় ভাই নূর ছালামের বাড়ি, রসুলবাগ এলাকায় তার ছোট ভাই মিয়া মোহাম্মদ নূর উদ্দিনের বাড়ি ও নূর হোসেনের মালিকাধীন পরিত্যক্তভাবে পড়ে থাকা এবিএস পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন সম্পত্তি পরিদর্শন করেন।
এ সময় নূর হোসেনের ছোট ভাই নুরুজ্জামান জজের নামে করা ছয়তলা বাড়িতে দুদকের অনুসন্ধান দলকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। দুদকের অনুসন্ধানী দলকে দেখে ওই বাড়ির নিরাপত্তা প্রহরী মূল ফটকের তালা বন্ধ করে দেন। পরে দুপুর ২টার দিকে দুদকের দুই কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা ত্যাগ করেন।
অনুসন্ধানের সময় নূর হোসেনের স্ত্রী রুমা আক্তার ওরফে রুমা হোসেন বাড়িতে থাকলেও তিনি দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনও কথা বলতে রাজি হননি।
দুদক সূত্রে জানা যায়, নূর হোসেন ও তার স্ত্রী মোসাম্মৎ রুমা আক্তার ওরফে রুমা হোসেন দুদকে যে সম্পদ বিবরণী জমা দিয়েছেন দুদক তা যাচাই-বাছাই করবে। সম্পদের কোনও তথ্য গোপন করলে অথবা বিবরণীতে দেওয়া তথ্যের বাইরে কোনও সম্পদ পেলে কমিশন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে।
উল্লেখ্য, ১৩ ডিসেম্বর কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামালের কাছে সম্পদের হিসাব জমা দেন নূর হোসেন। ওই হিসাব বিবরণীতে নূর হোসেন এক কোটি ৭৮ লাখ টাকার সম্পদের হিসাব দেখিয়েছেন। ২০১৪ সালের ১৯ মে অনুসন্ধান শুরুর পর নূর হোসেনের নামে-বেনামে প্রায় আট কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ পায় দুদক।
প্রসঙ্গত ট্রাকচালকের সহকারী থেকে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বিশাল সম্পদ গড়ার অভিযোগ উঠেছে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে। ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে হত্যাকাণ্ডের পর নূর হোসেন পালিয়ে গেলে ২০১৫ সালের ২৯ মে তার সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক। ওই বছরের ১২ নভেম্বর ভারত থেকে দেশে আনা হয় নূর হোসেনকে।
/জেবি/এফএস/টিএন/








