চট্টগ্রামে জন্মনিবন্ধন জালিয়াত চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। তাদের মধ্যে তিন জন হ্যাকার। তাদের পাঁচটি জেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত তিন দিনের অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। রবিবার দুপুরে দামপাড়া মেট্রোপলিটন পুলিশ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ-কমিশনার (ডিসি) লিয়াকত আলী খান।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলো– সাগর আহমেদ জোভান (২৩), শেখ সেজান (২৩), মেহেদী হাসান (২৩), শাকিল হোসেন (২৩) ও মাসুদ রানা (২৭)। এ সময় তাদের কাছ থেকে জন্মনিবন্ধন জালিয়াতিতে ব্যবহৃত কম্পিউটারের দুটি সিপিইউ, দুটি মনিটর, তিনটি ল্যাপটপ, একটি ট্যাব, একটি প্রিন্টার এবং ৬টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড (বন্দর) কাউন্সিলর কার্যালয়ে, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড (পাহাড়তলী) কাউন্সিলর কার্যালয়ে, ৪০ নম্বর ওয়ার্ড (পতেঙ্গা) কাউন্সিলর কার্যালয়ে, ১৪ নম্বর ওয়ার্ড (খুলশী) কার্যালয়ে এবং ১১ নম্বর ওয়ার্ড (দক্ষিণ কাট্টলী) কাউন্সিলর কার্যালয়ে ১১ জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪০৯টি ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যু করে হ্যাকার চক্র। এসব ঘটনায় খুলশী থানায় দুটি, হালিশহর থানায় একটি এবং বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলা তদন্ত করতে গিয়ে জন্মনিবন্ধন হ্যাকার চক্রের ছয় সদস্যকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে জহির আলম (১৬) ও মোস্তাকিম (২২) নামে দু ব্যক্তি আদালয়ে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দির তথ্যে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন মুরাদপুর এলাকা থেকে সাগর আহমেদ জোভান নামে এক হ্যাকারকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানা থেকে হ্যাকার শেখ সেজানকে গ্রেফতার করা হয়। তার মালিকানাধীন ‘আদনান কম্পিউটার অ্যান্ড স্টুডিও’ নামে দোকান থেকে জন্মনিবন্ধন জালিয়াতিতে ব্যবহৃত আলামত জব্দ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার কলাবাগান থানা এলাকা থেকে জাল জন্মনিবন্ধন সনদ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জন্ম নিবন্ধন অফিসের অফিসিয়াল সিল, অফিসের প্যাডসহ মেহেদী হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে জোভান ও সেজানের দেওয়া তথ্যে সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ থানা এলাকা থেকে হ্যাকার শাকিল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে গাজীপুরের বাসন থানা এলাকা থেকে মাসুদ রানা নামে অপর আরও এক হ্যাকারকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, তারা এ পর্যন্ত চট্টগ্রাম, ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, কমিল্লা, সিলেট ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন জেলায় অসংখ্য জন্মনিবন্ধন সনদ সৃজন করেছে।’
এ চক্রটি চার থেকে পাঁচ হাজার ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করে বিতরণ করেছে। প্রতিটি ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরিতে তারা এক হাজার ২শ’ টাকা থেকে এক হাজার ৫শ’ টাকার করে নিতো। হ্যাকাররা জন্মনিবন্ধন সার্ভারে প্রবেশ করে ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরি করতো।









