কক্সবাজারের রামুর হিমছড়িতে সড়ক ডাকাতির ঘটনা বেড়েই চলছে। বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ফের একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। নতুন বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত চারটি সড়ক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। আর এই পরিস্থিতিতেও পুলিশের তেমন কোনও তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ করেছেন ওই সড়কে যাতায়াতকারি যাত্রী ও গাড়ি চালকরা। আর জনবল সঙ্কটের কারণে টহল জোরদার করা যাচ্ছে না বলে দাবি পুলিশের।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১৪ ফেব্রুয়ারি মেরিন ড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি ছোট ঝর্ণা এলাকায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে ব্যারিকেট দিয়ে ডাকাতির ব্যর্থ চেষ্টা চালায় মুখোশধারী একদল ডাকাত। তাদের দেওয়া ব্যারিকেট অমান্য করে পার হওয়ার সময় কক্সবাজার-ট-১১-৩১৫৬ নাম্বারের যাত্রীবাহী অটোরিকশাটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং অটোরিকশার সামনের অংশ ভাঙচুর করে ডাকাতদল। এ ঘটনায় অটোরিকশা চালক আহমদ হোসেন প্রকাশ পুতিয়া (৩৮) ও যাত্রী হোছন আলী প্রকাশ (৩০) গুরুতর আহত হন। অথচ ঘটনাস্থল থেকে মাত্র আধা কিলোমিটারের মধ্যে হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ি থাকলেও কোনও পুলিশের দেখা মেলেনি।
এছাড়াও চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি মেরিন ড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি আর্মি ক্যাম্পের উত্তরে পর্যটকবাহী একটি ইজিবাইক ভাঙচুর করে এক পর্যটক দম্পতির সর্বস্ব লুটে নেয় ডাকাতরা। এ নিয়ে গত দেড় মাসে চারটি সড়ক ডাকাতির ঘটনায় সাধারণ যাত্রী ও গাড়ি চালকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।
জানা গেছে, কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের দরিয়ানগর, ৩নং ব্রিজ, ছোট ঝর্ণা ও বড় ঝর্ণাসহ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বিভিন্ন স্পটে ডাকাতি প্রতিরোধসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য হিমছড়িতে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়। ওই পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের পর থেকে ডাকাতিসহ নানা অপরাধ অনেকাংশে কমে আসে। এ কারণে পর্যটক ও সমুদ্র উপকূলবর্তী স্থানীয় জনসাধারণ নির্ভয়েই যাতায়াত করেন কক্সবাজারে। কিন্তু সম্প্রতি ওই সড়কে ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
যাত্রী ও গাড়ি চালকদের অভিযোগ, হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা চিহ্নিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রাতে টহল না দিয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে গাড়ি তল্লাশির নামে যাত্রী ও চালকদের হয়রানি করে। আবার অনেক সময় পুলিশ ফাঁড়ি থেকে ২/৩ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত মারমেইড রিসোর্ট বা সাম্পান রিসোর্টে গভীর রাত পর্যন্ত আড্ডায় মগ্ন থাকে। ফলে পুলিশের অনুপস্থিতিতে তৎপর হয়ে উঠেছে ডাকাতরা।
হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই প্রেমানন্দ ডাকাতির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জনবল সঙ্কটের কারণে অনেকাংশে টহল দেওয়া পুলিশের পক্ষে সম্ভব হয় না। এরপরও পুলিশ যথা সম্ভব রাতে টহল দিচ্ছে। তিনি মারমেইড রিসোর্ট বা সাম্পান রিসোর্ট পাহারা দেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয় বলে জানান।
রামু থানার নতুন ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর জানান, ডাকাতির ঘটনায় হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ প্রেমানন্দকে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেহেতু মেরিন ড্রাইভ সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাই ওই সড়কের চিহ্নিত স্থানগুলোতে রাতে টহল জোরদার করা হবে।
এদিকে, ওই সড়কের সম্ভাব্য ডাকাতির স্থানে রাতে পুলিশের টহল বাড়ানোর পাশাপাশি বৈদ্যুতিক বাতি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
/বিটি/এফএস/








