নারায়ণগঞ্জে বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিক সোহেল কিরণ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। রবিবার ( ৯ এপ্রিল) দুপুরে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি রূপগঞ্জ থানায় অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন বাংলা টিভির রূপগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাতে ও মাথায় ব্যানডেজ নিয়ে সাংবাদিক সোহেল কিরণকে একটি ভ্যানগাড়িতে শুইয়ে থানায় নিয়ে আসেন স্বজনরা। এ সময় থানার সামনে অবস্থান নেন তারা। ভ্যানগাড়ির এক পাশে সাঁটানো ব্যানারে লেখা ছিল, ‘আমি বাচঁতে চাই, বাচঁতে দিন; নয়তো থানা হাজতে আশ্রয় দিন।’ নিরাপত্তাহীনতা কথা উল্লেখ করে তিনিসহ তার স্বজনরা থানার সামনে অবস্থান নিয়েছেন।
সাংবাদিক সোহেল কিরণের বাবা আব্দুল হান্নান বলেন, ‘সংবাদ প্রকাশের জেরে গত ৪ এপ্রিল রাতে কাঞ্চন বাজারের সামনে কিরণকে কলি বাহিনীর সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে আহত করে। এ ঘটনায় সন্ত্রাসী গোলাম রসুল কলি ও আফজালসহ ৭-৮ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। তবে ঘটনার ৫ দিন অতিবাহিত হলেও আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ অবস্থায় উল্টো মামলা তুলে নিতে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে একটি প্রভাবশালী মহল। এতে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। তাই বাধ্য হয়ে রূপগঞ্জ থানায় এসে আশ্রয় চেয়েছি। আমাদের নিরাপত্তা দিতে না পারলে থানার ভেতরে রেখে দিক।’
স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় একটি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাসেবা নিয়ে সাংবাদিক সোহেল কিরণ স্বজনদের নিয়ে থানায় হাজির হয়েছেন। এ সময় সোহেলের সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী সন্তানসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। পরে থানায় প্রায় তিন ঘণ্টা থাকার পর পুলিশ পাহারায় তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সি সার্কেল) আবির হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তারা থানায় আসলে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তবে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে তারা এখন পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে। আর তাদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের নজরদারিতে রাখা হবে। সবশেষে তাদের বুঝিয়ে-শুনিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এই ঘটনায় পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন মধ্য বাজার এলাকায় সোহেল কিরণের ওপর একদল সস্ত্রাসী হামলা চালিয়ে আহত করে। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় কাঞ্চন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল কলি এবং তার সহযোগী আফজালসহ অজ্ঞাত আরও ৮ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। এই ঘটনার পর থেকে সাংবাদিক মহলে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠে। এর প্রতিবাদে স্থানীয় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে আসছে।









