পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় অনুষ্ঠিত হয়েছে রাখাইনদের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই জলকেলি উৎসব। পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে মঙ্গলবার বিকালে কুয়াকাটার শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন রাখাইন মার্কেটে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবে জলকেলিতে মাতোয়ারা ছিল রাখাইন কিশোর-কিশোরীরা।
এর আগে বেলা ১১টায় শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহারে বুদ্ধ স্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। করোনায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর গত বছর এ অনুষ্ঠান স্বল্প পরিসরে শুরু হয়। এ বছর আনুষ্ঠনিকভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজনে রাখাইদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
কুয়াকাটা রাখাইন পল্লীর মাতুব্বর উচান চিনের সভাপত্বিতে এ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ অধ্যক্ষ মহিবুর রহমান মহিব। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ ফাতেমা আক্তার রেখা, কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার, কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল বারেক মোল্লা, মহিপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার আবুল খায়ের, কুয়াকাটা টু্রিস্ট পুলিশ জোনের ইনচার্জ হাসনাইন পারভেজ, টু্রিস্ট পুলিশ পরিদর্শক মনিরুল হক ডাবলু, রাখাইন প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট চানচান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ইফিঊচ্যান রাখাইন বলেন, ‘পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে জলকেলি উৎসবের আয়োজন করা হয়। তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রথমদিন শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহারে বুদ্ধ স্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। পরের দুই দিন থাকে জলকেলি উৎসব।’
মিয়াসুই রাখাইন বলেন, ‘এ অনুষ্ঠানে মূলত তরুণীদের কাছ থেকে রাখাইন তরুণদের পানি কিনতে হয়। তরুণীদের পানি কিনতে হয় না। তারা এখানে সংরক্ষিত পানি ব্যবহার করতে পারেন।’
কুয়াকাটা রাখাইন পল্লীর মাতুব্বর উচান চিন বলেন, ‘জলকেলি উৎসব আগে প্রত্যেকটি পাড়ায় অনুষ্ঠিত হতো। এখন আর্থিক সংকটের কারণে সব পাড়ায় অনুষ্ঠিত হয় না। এ অনুষ্ঠান আয়োজন করতে মোটা অংকের টাকা খরচ হয়। আমার বিভিন্ন মাধ্যমে অনুদান নিয়ে কুয়াকাটায় আয়োজন করছি।’









