হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে গরু চুরির অপবাদ দিয়ে ৬০ বছরের এক বৃদ্ধকে শত-শত মানুষের সামনে লাঠিপেটা করলেন স্থানীয় মেম্বার জমসেদ আলী। এদিকে মারপিঠের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে প্রকাশ করায় জেলা জুড়ে চলছে তোলপাড়। আহত বৃদ্ধ আবু বক্করকে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত ইউপি মেম্বারকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বাতেন খান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড সাতাইহাল গ্রামের স্থানীয় মেম্বার জমশেদ আলী একই গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ মো. আবু বক্করকে গত রবিবার রাতে গরু চুরির মিথ্যা অভিযোগ এনে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। তাকে মেম্বারের বাড়িতে আটকে রেখে পরদিন সোমবার গ্রামের একটি মাঠে শতশত মানুষের সামনে বেধড়ক মারধর করা হয়।
নির্যাতিত বৃদ্ধ আবু বক্কর মিয়া বলেন, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। জোর করে চুরির কথা স্বীকার করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আমি গরিব বলে এর বিচার পাব কিনা জানি না। বৃদ্ধের মেয়ে আলেমা জানান, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বাবাকে নির্যাতন আধমরা করে ফেলেছে। আমার বাবা মারা গেলে তার জন্য ইউপি মেম্বার জমশেদ দায়ী থাকবেন।
৬০ বছরের জীবনে আবু বক্করের চুরির কোনও রেকর্ড নেই বলে জানা যায়। স্থানীয় ইউপি মেম্বার জমশেদ আলী লাঠিয়ে দিয়ে বেধড়ক পেটানোর কথা অস্বীকার করে জানান, সাবেক ইউপি সদস্য ছান্দ আলী রবিবার রাতে আবু বক্করকে চুরির অপরাধে তার বাড়িতে নিয়ে আসার পরদিন মানুষের সামনে তাকে শাসানো হয়েছে। গ্রামবাসীর ক্রোধ থেকে বৃদ্ধকে বাঁচাতে তাকে কিলঘুষি দেওয়া হয়েছে। কোনও নির্যাতন হয়নি।
জানান, এ বিষয়ে কোনও অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/বিটি/ এইচকে/








