দীর্ঘ তাপপ্রবাহের পর শুক্রবার (৯ জুন) সকাল থেকে দেখা মিলেছে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির। ঝুম বৃষ্টির প্রভাবে অস্বস্তিকর গরম থেকে আপাতত স্বস্তি মিলেছে। কুড়িগ্রামে সকাল থেকে মাত্রা কমা বাড়া করে বৃষ্টি চলছে। ফলে বিদ্যুৎ আর গরম বিড়ম্বনায় থাকা জনমনে ফিরেছে প্রশান্তি।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার জানায়, শুক্রবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটে শুরু হওয়া বৃষ্টি সকাল ৯টায় রেইন গেজ মিটারে ৪৯ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্বাভাস মিলে গেলে এ সময় জুড়ে অসহনীয় তাপমাত্রা হ্রাস পেয়ে আবহাওয়া কিছুটা স্বস্তিদায়ক হতে পারে।
এদিকে, শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় বৃষ্টি বিলাসে মেতেছেন অনেকে। অনেকে স্বস্তি প্রকাশ করে বৃষ্টির স্থির চিত্র আর ভিডিও পোস্ট করেছেন স্যোশাল মিডিয়ায়। তবে কর্মজীবী মানুষজন বৃষ্টি উপেক্ষা করে নেমেছেন সড়কে-মাঠে। তবে বিপর্যস্ত হয়ে নয়, চোখে মুখে বিড়ম্বনা থেকে সাময়িক মুক্তির আনন্দ নিয়ে। যদিও বৃষ্টিতে বাইরে বের হওয়া তাদের বিলাসিতা নয়, বরং জীবিকার বাধ্যবাধকতা।
কুড়িগ্রাম শহরের জিয়া বাজার এলাকায় কথা হয় রিকশাচালক ছাদের আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি হওয়ায় শান্তি মিলছে। কয়দিন থাকি যে অবস্থা তাতে ঘরত-বাইরত কোনওটেই শান্তি পাই নাই। আইজ বৃষ্টি হওয়ায় আরাম পাইতেছি। যাত্রী কম হইলেও রাস্তাত বের হয়া গরমের কষ্ট নাই।’
সদরের জিগাবাড়ির ঘাট এলাকার বাসিন্দা শারীরিক প্রতিবন্ধী ঠেলাগাড়ি চালক আবুল (৬৮)। সকালে বৃষ্টিতে ভিজে বের হয়েছেন ঠেলাগাড়ি নিয়ে। তিনি বলেন, ‘ঝড়ি (বৃষ্টি) হয়া শান্তি মিলছে। কয়দিন থাকিতো ঘামত ভিজছি, আইজ ঝড়িত ভিজলং। এদন (এমন) গরমের চেয়ে ঝড়ি ভালো।’
এদিকে আগামী কয়েকদিন বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। একই বার্তা দিয়েছে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসের বরাত দিয়ে রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তুহিন মিয়া বলেন, ‘আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই কয়েকদিন তাপমাত্রা হ্রাস পেতে পারে। ফলে চলমান অস্বস্তিকর গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে।’
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আগামী কয়েকদিন বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এ সময় জেলার নদ-নদীর পানি কিছুটা বাড়বে। তবে তা বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে।’ তবে উজানে বৃষ্টিপাতের বিষয়ে কোনও তথ্য দিতে পারেননি এই কর্মকর্তা।









