ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়ে দুই পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলার পর এবার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে শহরের বাইপাস বিরাসার এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সোমবার (১২ জুন) বেলা ১১টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। থেমে থেমে অন্তত আধাঘণ্টা ধরে এই সংঘর্ষ চলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত ৮ জুন বৃহস্পতিবার জেলা ছাত্রদলেন নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এরপর বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহাবুব শ্যামলের অনুসারী পদবঞ্চিত ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপির অপর অংশের নেতা কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার অনুসারীদের কান্দিপাড়াস্থ বাস ভবনে হামলা ও ভাঙচুর করে। এ নিয়ে গত দুদিন ধরে শহরের কান্দিপাড়ায় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এরই জের ধরে সোমবার সকালে ছাত্রদল কমিটির নেতাকর্মীরা শহরতলীর বিরাসার মোড় থেকে আনন্দ মিছিল বের করে। মিছিলে জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আবু শামীম আরিফ (ভিপি শামীম), স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন দিলীপ, ছাত্রদলের ঘোষিত কমিটির আহ্বায়ক শাহীনুর রহমা ও সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তীসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে মিছিল শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে ছাত্রদলের পদবঞ্চিত গ্রুপের সাবেক আহ্বায়ক ফুজায়েল চৌধুরীর নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হঠাৎ করে রামদাসহ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অর্ধশতাধিক ককটেল নিক্ষেপ করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। চলে ইটপাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপ। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে বিরাসার এবং খৈয়াসার এলাকায় এই সংঘর্ষ চলে। খবর পেয়ে সদর থানা-পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনা সম্পর্কে সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম বলেন, ‘জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে এক পক্ষ অপর পক্ষের বাড়িঘরে হামলা ভাঙচুর ককটেল নিক্ষেপ করছে। আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে থানায় মামলা নিয়েছি। দোষীদের গ্রেফতারে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযান চলছে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সেলিম শেখ বলেন, ‘আমি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গত বৃহস্পতিবার রাতে শাহীনুর রহমানকে আহ্বায়ক ও সমীর চক্রবর্তীকে সদস্য সচিব করে পাঁচজনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।









