গাজীপুরে পেট্রোলের আগুনে দগ্ধ নানি বেবী বেগম (৫৫) মারা গেছেন। স্কুল থেকে নাতনিকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সৎনাতির দেওয়া আগুনে তিনি দগ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে একসপ্তাহ চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকার পর শনিবার রাতে তার মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় দগ্ধ তার নাতনি সানজিদা আক্তারের (১৩) অবস্থাও আশঙ্কাজনক। রবিবার গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার ওসি মাহাতাব উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত বেবী বেগম (৫৫) ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার কান্ডপাশা গ্রামের ইউনুস তালুকদারের স্ত্রী। সানজিদা (১৩) গাজীপুর সদর উপজেলার শিরিরচালা এলাকার শফিকুল ইসলামের মেয়ে।
জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাতাব উদ্দিন জানান, গত ১৮ জুন নাতনি সানজিদাকে নিয়ে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিলেন বেবী। পথে নানি-নাতনি দুজনের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় সানজিদার সৎভাই শুভ মিয়া ও ভগ্নিপতি সাব্বির আহমেদ। দগ্ধ নানি-নাতনিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে ভর্তি করা হয়। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বেবী বেগম। একই ঘটনায় দগ্ধ তার নাতনি সানজিদা আক্তার আশঙ্কাজনক অবস্থায় একই হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় ওই রাতেই সানজিদার বাবা শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় তিনি সাবেক স্ত্রী মনিরা বেগম, মনিরার মা এবং তার (মনিরার) প্রথম পক্ষের ছেলে শুভ মিয়া ও জামাতা সাব্বির আহমেদকে আসামি করেন। পুলিশ মামলায় অভিযুক্ত সানজিদার সৎভাই শুভ মিয়া ও ভগ্নিপতি সাব্বির আহমেদকে গ্রেফতার করে। মামলার অপর দুই আসামি মনিরা বেগম ও তার মা (মনিরা বেগমের) বর্তমানে উচ্চ আদালতের জামিনে আছেন।
সানজিদার সৎভাই শুভ মিয়া নরসিংদী জেলার মনোহরদী থানার অর্জনচর এলাকার সুলতান ফকিরের ছেলে এবং শুভ মিয়ার ভগ্নিপতি সাব্বির আহমেদ (২৬) ময়মনসিংহের ভালুকা থানার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকার মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে।
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. মো. তরিকুল ইসলাম জানান, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বেবী বেগম। তার শরীরের ৬০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। তার নাতনি সানজিদা আক্তারের (১৩) অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তিনিও একই হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আগুনে সানজিদার শরীরের ৫৫ শতাংশ দগ্ধ হয়।
ওসি আরও জানান, সানজিদার মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা শফিকুল ইসলাম তিন সন্তানের মা মনিরা বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সম্প্রতি পারিবারিক বিরোধের জেরে বনিবনা না হওয়ায় মনিরা তার দ্বিতীয় স্বামী শফিকুল ইসলামকে তালাক দিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। পরবর্তী সময়ে শফিকুল সন্তানদের দেখাশোনার জন্য প্রথম স্ত্রীর মা বেবী বেগমকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।









