নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় একটি জামদানি কারখানায় পায়ে শেকল বেঁধে কিশোর শ্রমিককে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ওই কারখানার মালিককে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃত আক্তার হোসেন দক্ষিণ রূপসী এলাকার সরাফত আলীর ছেলে। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার গুন্দিমারী এলাকার মোতালিব মুন্সীর ছেলে আনছারুল ইসলাম (১৪) তার কারখানার কারিগর।
কিশোর আনছারুল ইসলাম (১৪) মঙ্গলবার আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। সে জানায়, অন্যত্র কাজ করতে যাওয়ার কথা বলার পরেই তার পায়ে মোটা লোহার শেকল বেঁধে জোর করে কাজ করানো হয়। ঠিকমত খাবার দেওয়া হয়নি। উল্টো নির্যাতন করা হয়েছে। গত ১৫ দিন ধরে তার ওপর এ নির্যাতন চলে।
নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইদুজ্জামান শরীফের আদালতে ওই জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে রূপগঞ্জের রূপসী কাজীপাড়া এলাকায় জামদানি তৈরির কারখানা থেকে কিশোর আনছারুল ইসলামকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় ওই কারখানার মালিক আক্তার হোসেনকে (৫০) গ্রেফতার করা হয়।
রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবিএম মেহেদী মাসুদ জানান, দক্ষিণ রূপসী এলাকার আক্তার হোসেনের বাড়িতে দীর্ঘ দিন ধরে জামদানির কাজ করে আসছে কিশোর আনছারুল ইসলাম। কয়েক মাস ধরে কোনও প্রকার বেতন, ভাতা না দেওয়ায় সে অন্য কারকানায় কাজ করতে চায়। কিন্তু উল্টো আক্তার হোসেন তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। দাবিকৃত টাকা না পাওয়ায় এবং জামদানি বুনতে না চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে আক্তার হোসেন গত ১৫ দিন ধরে আনছারুল ইসলামকে মোটা লোহার শেকল দিয়ে বেঁধে রেখে জামদানি বুনতে বাধ্য করে। এছাড়া জামদানি বুনতে ধীরগতি হলেই শারীরিক নির্যাতন চালায়।
এ ঘটনায় আনছারুল ইসলামের ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে দক্ষিণ রূপসী এলাকা থেকে শেকল বাঁধা অবস্থায় আনছারুলকে উদ্ধার করা হয়।
/বিটি/এজে/








