প্রায় ১৩ বছর পর অনুষ্ঠিত যশোরের বেনাপোল পৌরসভার নির্বাচনে ভোটারদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মফিজুর রহমান সজন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নাসির উদ্দিন বলেছেন, বেনাপোলবাসী সজনকে ভালোভাবেই চেনেন। নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে তিনি এই অপকৌশল নিয়েছেন।
বেনাপোল পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্র বেনাপোল মহিলা আলিম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে সোমবার সকাল ১০টার দিকে পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী এই বক্তব্য দেন।
এই কেন্দ্রে পুরুষ ভোটার ২ হাজার ১৮৩ এবং নারী ভোটার ২ হাজার ২৪৬। প্রথম ঘণ্টায় পুরুষ ভোট ১২৫ এবং নারী ভোট ২৭০ কাস্ট হয়েছে বলে জানান প্রিজাইডিং অফিসার শফিউর রহমান ও জাহিদুল ইসলাম।
স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মফিজুর রহমান সজন অভিযোগ করেন, ‘সন্ত্রাসীরা বাইরের এলাকা থেকে পৌরসভায় এসে মহড়া দিচ্ছে, তারা ভীতির সঞ্চার করছে। কেন্দ্রগুলো থেকে তার পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ করেও কোনও প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।’
তবে, আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী নাসির উদ্দিন বলেছেন, ‘অভিযোগ করা স্বতন্ত্র প্রার্থীর একটি নির্বাচনি অপকৌশল। আমি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে ভাবছি না। আমি ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ভাবনা এবং আওয়ামী লীগের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।’
প্রায় ১৩ বছর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা মার্কায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নাসির উদ্দিন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোবাইল ফোন প্রতীকে লড়ছেন ব্যবসায়ী নেতা মফিজুর রহমান সজন।
এ ছাড়া ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৪৭ এবং সংরক্ষিত নারী আসনে ১৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই পৌরসভায় মোট ভোটার ৩০ হাজার ৩৮৫ জন ।
২০০৬ সালে বেনাপোল ইউনিয়নের ১১টি গ্রামের অংশ নিয়ে বেনাপোল পৌরসভা গঠনের পর ২০১১ সালের ১৩ জানুয়ারি প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সেখানে আর কোনও নির্বাচন হয়নি। ২০২২ সালের ২৭ এপ্রিল পৌর পরিষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।









