বনবিভাগের এক মামলায় জেল খেটে বের হয়েছেন সম্প্রতি। আরও দুটির মামলা রয়েছে। প্রতারণা করে নিরীহ মানুষের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে বাগেরহাটের মোংলার লিটন মন্ডলের (৪০) বিরুদ্ধে। সরকারি চাকরি, ভিজিডি কার্ড, আবাসনে সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে এখন পলাতক তিনি।
লিটন মোংলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনি গ্রামের বাসিন্দা। লিটনের বিরুদ্ধে এলাকার সাধারণ মানুষের রয়েছে নানা অভিযোগ। শনিবার (৫ আগস্ট) বেলা ১১টায় তার বিচার চেয়ে চিলা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, কখনও তিনি মানবাধিকার কর্মী, কখনও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স আবার কখনও সরকারি কর্মকর্তার আত্মীয় বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন। লিটনের প্রতারণা ধরা পড়লে একজোট হয়েছেন প্রতারণরা শিকার কয়েকশ মানুষ।
লিটনের বিচার চাইতে এসে মিনাল কান্তি রায় নামে এক ভুক্তভোগী জানান, তার জমির কাগজ ঠিক করে দেবেন বলে দুই মাস আগে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে কোনও ফয়সালা করেননি লিটন। এখন টাকাও দিচ্ছেন না। বাড়িতে গিয়ে না পেয়ে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
চিলার কাটাখালী গ্রামের বলয় রায় ও আলম গাজী জানান, ভিজিডি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেক ৬০ হাজার টাকা নিয়ে এখন উধাও হয়ে গেছেন।
সরকারি আবাসনের ঘর দেওয়ার কথা বলে জয়মনি গ্রামের অজিত রায়, সুরঞ্জন রায়, বিকাশ রায়, মানিক শিকদার ও আলম ফকিরের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা করে নিয়েছেন লিটন। এখন লিটনের খোঁজ মিলছে না।
সবির কুমার বাড়ৈ নামে এক গ্রামপুলিশ জানান, তার ছেলেকে উপজেলায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রথমে ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এরপর সরকারি ঘর দেওয়ার কথা বলে আরও ১০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু ঘর কিংবা চাকরি কোনটাই জোটেনি।
ইউপি চেয়ারম্যান গাজী আকবর হোসেন অভিযোগ করেন, চিলা ইউনিয়নে মাদকের প্রথম ব্যবসা নিয়ে আসেন লিটন। এলাকার যুবকদের মাদক ধরিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ তাকে আটকও করে। জামিনে বের হয়ে এলাকার বিভিন্ন লোকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সরকারি ঘর, পানির ট্যাংক ও ভিজিডি কার্ড দিয়ে বেড়ান বলে শুনেছি। তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
লিটন মন্ডলকে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তার বিষয়ে খোঁজ নিতে তার এলাকায় গেলে লিটন আত্মগোপন করেছেন বলে প্রতিবেশীরা জানান।
মোংলা থানার ওসি মোহাম্মদ শামসুদ্দীন বলেন, ‘কিছুদিন আগে লিটনকে একটি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। শুনেছি জামিনে বের হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার চিলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গাজী আকবর হেসেন তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।’









