যশোরের মণিরামপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ঢুকে শিক্ষার্থীদের সামনে এক শিক্ষিকাকে বেধড়ক মারধর ও গালিগালাজ করার অভিযোগে মিজানুর রহমান (৩৮) নামে এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে (২২ আগস্ট) তাকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার ওই শিক্ষিকা ওইদিনই মিজানুর রহমানের নামে মণিরামপুর থানায় মামলা করেন।
মিজানুর মণিরামপুর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের সদর আলী দফাদারের ছেলে। তিনি মণিরামপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড (দুর্গাপুর) যুবলীগের সভাপতি।
মারধরের শিকার শিক্ষিকা বলেন, ‘মিজানুর রহমানের ছেলে রাকিবুল ইসলাম বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। তার বয়স ১১ বছরের মতো। মঙ্গলবার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা চলছিল। একটি কক্ষে দায়িত্ব পালন করছিলাম। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে রাকিবুল ইসলাম এবং আরও দুই-তিন জন শিক্ষকদের জন্য নির্ধারিত নতুন লাগানো বেসিনের ট্যাপ ব্যবহারের চেষ্টা করছিল। দেখতে পেয়ে আমি তাদের নিষেধ করি এবং তাদের পুরাতন বেসিনটি ব্যবহার করতে বলি। তখন রাকিবুল ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে গালাগাল শুরু করে। একপর্যায়ে তাকে ধমক দিই। সঙ্গে সঙ্গে সে বিদ্যালয়ের পাশেই বাড়িতে গিয়ে নালিশ করে। ৫-৬ মিনিট পরই রাকিবুলের বাবা মিজানুর রহমান এবং মা বিদ্যালয়ে আসেন। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিল। শ্রেণিকক্ষে ঢুকে শিক্ষার্থীদের সামনে মিজানুর অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি আমাকে এলোপাতাড়ি চড়, কিল, ঘুষি এবং লাথি মারতে থাকেন। এরপর চুলের মুঠি ধরে টেনেহিঁচড়ে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে বিদ্যালয়ের মাঠ চত্বরে নিয়ে যান। মাঠের পূর্ব পাশে দুর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে নিয়ে ফের কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। পরে মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষকেরা এসে মিজানকে নিবৃত্ত করেন।’
তিনি অভিযোগ করেন, মারধর চলাকালে প্রধান শিক্ষক স্কুলে থাকলেও তিনি ঠেকাতে আসেননি।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা জানান, ঘটনার পর তিনি মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বিষয়টি তিনি মোবাইল ফোনে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানান। এরপর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসমত আরা পারভিন এবং সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা বিদ্যালয়ে যান। ওইদিনই তিনি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মণিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
ঘটনার বিষয়ে দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাহেব আলী মহলদার বলেন, ‘ওই শিক্ষিকাকে অভিভাবক মিজানুর রহমানের সঙ্গে কথা কাটাকাটি করতে দেখেছি। তাকে মারধর করতে দেখিনি। মারধরের অভিযোগ ঠিক না। তিনি আমার কাছে বা বিদ্যালয়ের কমিটির কাছে এ ব্যাপারে কোনও অভিযোগও করেননি।’
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইসমত আরা পারভিন বলেন, ‘ঘটনা জানার পরপরই পাঁচ জন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নিয়ে ওই বিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। যে ঘটনা ঘটেছে সেটা ন্যক্কারজনক। ভুক্তভোগী শিক্ষিকাকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’
এ ব্যাপারে জানতে মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে কল করলে তার স্ত্রী পরিচয় দিয়ে রহিমা খাতুন নামে এক নারী রিসিভ করেন। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী এখন বাসায় নেই। তিনি ফোন বাসায় রেখে গেছেন।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বেসিনে হাত ধুতে গেলে ওই শিক্ষক সেদিন আমার ছেলেকে গাঁজাখোর বলেন। ছেলে এই কথা বাড়িতে এসে বললে তার বাবার সঙ্গে আমিও যাই। কিন্তু সেখানে কোনও মারপিটের ঘটনা ঘটেনি। তিনি মিথ্যাচার করছেন।’
মণিরামপুর থানার ওসি শেখ মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ওই শিক্ষিকা লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরপরই মামলা (মামলা নম্বর ২৮/২২.০৮.২০২৩) হয়েছে। অভিযুক্ত মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।









