বগুড়ায় বিস্ফোরক মামলার আসামিকে বাঁচাতে পুলিশ সুপারকে (এসপি) ঘুষ দিতে গিয়ে গ্রেফতার দুজনসহ তিন জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বগুড়ার স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক অম্লান কুসুম জিষ্ণু বুধবার বিকালে এ রায় দেন। দুদকের স্পেশাল পিপি আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেনÑ বগুড়া শহরের দক্ষিণ নাটাইপাড়ার মৃত মালেক কাজীর ছেলে মাহমুদুর রহমান মামুন কাজী; বগুড়া সদরের শাখারিয়া ইউনিয়নের বনমালীপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোজাম্মেল হক; জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বাঘড়া গ্রামের সফির উদ্দিনের ছেলে আশরাফ আলী সিদ্দিকী।
আদালত ও দুদক সূত্র জানায়, মাহমুদুর রহমান মামুন কাজী ২০১৩ সালে বিস্ফোরক মামলার আসামি হন। পলাতক ওই আসামিকে মামলা থেকে বাঁচাতে আশরাফ আলী সিদ্দিকী ও মোজাম্মেল হক উদ্যোগ নেন। ঘটনার সময় মামুন কাজী অসুস্থ অবস্থায় ক্লিনিকে ভর্তি ছিলেন, তারা এমন একটি ভুয়া ডাক্তারি সনদপত্র সংগ্রহ করেন। ২০১৩ সালের ৬ জুন দুপুরে বগুড়ার তৎকালীন পুলিশ সুপার (বর্তমানে খুলনা মেটোপলিটন পুলিশের ডিআইজি) মোজাম্মেল হকের অফিসে যান। তারা মামুন কাজীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে পুলিশ সুপারকে ডাক্তারি সনদপত্র দেন। এ ছাড়া ১০ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ সুপার তৎক্ষণাৎ প্রতারক মোজাম্মেল হক ও আশরাফ আলী সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করান। এ ছাড়া খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, সনদপত্র দেওয়া ওই চিকিৎসক তিন বছর আগে মারা গেছেন। এ ব্যাপারে ডিবি পুলিশের তৎকালীন এসআই আবদুর রাজ্জাক সদর থানায় তিন জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৬২, ১২০(খ) ও ২১৪ ধারায় মামলা করেন। পরে মামলাটি দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়। দুদকের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক শাহাদত আলী তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে তিন জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।
আট বছর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে বগুড়ার স্পেশাল জজ বুধবার বিকালে জনাকীর্ণ আদালতে আসামি আশরাফ আলী ও মোজাম্মেল হককে দণ্ডবিধির ১২০ (খ) ধারায় এক বছর জেল, ১৬২ ধারায় এক বছর জেল এবং ২১৪ ধারায় এক বছর জেল, ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া আসামি মামুন কাজীকে ১২০ (খ) ধারায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। পরে সাজাপ্রাপ্ত তিন জনকে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নাফ, অ্যাডভোকেট সদরুল আনাম রঞ্জু ও অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান (১) মামলা পরিচালনা করেন।









