বগুড়ায় অবরোধের শেষ দিন বৃহস্পতিবার সকালে শহরতলির তিনমাথা বেলাইল এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে কমপক্ষে আটটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় কয়েকটি ট্রাক ও অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ছাড়া বারপুর এলাকায় সার্ভিসিং করতে যাওয়ার সময় পিকেটাররা পেট্রোল ঢেলে একটি ট্রাকে আগুন দিয়েছে।
এ নিয়ে গত তিন দিনে দুটি ট্রাক ও কুরিয়ার সার্ভিসের একটি কাভার্ডভ্যান জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) স্নিগ্ধ আখতার জানান, শহরতলির তিনমাথা বেলাইল এলাকায় একটি গলি থেকে জামায়াত-বিএনপির লোকজন পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। এ সময় দুই রাউন্ড রাবার বুলেট এবং কয়েকটি টিয়ারশেল ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১০টার দিকে সদরের বারোপুর মোড়ে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। সেখানে জনগণের মাঝে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এ সময় অটোরিকশা ভাঙচুর ও মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পাহারা দিয়ে যান চলাচলে সহযোগিতা করে। পিকেটাররা বেলা ১২টার দিকে সদরের বারপুর এলাকায় একটি ট্রাকে (ঢাকা মেট্রো-ড-১২-০০১৪) পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়।
বারপুর এলাকায় ট্রাকমালিক ও চালক নূর আলম জানান, অবরোধের কারণে গত দুদিন ট্রাকটি গ্যারেজে ছিল। শেষ দিন বৃহস্পতিবার দুপুরে ট্রাক ধোয়ার জন্য গ্যারেজ থেকে বের করা হয়। সার্ভিসিং করতে নিয়ে যাওয়ার সময় মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ৬-৭ জনের একদল দুর্বৃত্ত এসে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। তিনি দ্রুত ট্রাক থেকে নেমে নিজেই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। এতে তার হাত পুড়ে যায়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসে আগুন নিভিয়ে ফেলেন।
অন্যদিকে, জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা বৃহস্পতিবার সকালে দ্বিতীয় বাইপাস মহাসড়কের সাবগ্রাম এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। শহর জামায়াতের আমির আবিদুর রহমান সোহেলের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এতে অংশ নেন। খবর পেয়ে পুলিশের গাড়ি এলে তারা সটকে পড়েন।









