রংপুর-২ আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী আনিসুল ইসলাম মণ্ডল বদরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও এমপি আহসানুল হক চৌধুরীকে পুলিশ প্রটোকল প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে ভোটার ও সমর্থকদের হুমকি-ধামকি দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ লিখিতভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে দিয়েছেন জাপা প্রার্থী। বৃহস্পতিবার তিনি জানান, তিন দিন আগে এ বিষয়ে তিনি সিইসি বরাবর অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি।
জানা গেছে, গত ১৯ ডিসেম্বর সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল রংপুর সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে রংপুরের ছয়টি আসনের প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সে সময় রংপুর-২ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিসুল ইসলাম মণ্ডল সিইসির কাছে অভিযোগ করেন, রংপুর-২ আসনটি বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ থানা নিয়ে গঠিত। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগ প্রার্থী আহসানুল হক চৌধুরী ১১ দিনের ব্যবধানে ওই দুই থানায় তিন ওসির বদলি করিয়ে তার পছন্দের পুলিশ কর্মকর্তাকে ওসি হিসেবে এনেছেন। এ সংক্রান্ত খবর বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান বদরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল লতিফ এর আগে তারাগঞ্জ থানার ওসি ছিলেন। তাকে তারাগঞ্জ থানায় আবারও বদলি করিয়ে আনেন। কিন্তু চার দিন না যেতেই তাকে আবারও বদরগঞ্জ থানায় বদলি করিয়েছেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরেও আওয়ামী লীগ প্রার্থী পুলিশ প্রটোকল নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় গণসংযোগ করেছেন এ সংক্রান্ত ভিডিও তার কাছে আছে। এ ছাড়াও বর্তমান ওসি তার সমর্থক ও নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি প্রদান করছেন।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ওসি আব্দুল লতিফ বদরগঞ্জ থানায় কর্মরত থাকলে বর্তমান এমপি ও সংসদ সদস্য প্রার্থীর দলীয় প্রতীক নৌকার পক্ষে কাজ করবেন। এতে নির্বাচন কমিশনের সচ্ছতা বাধাগ্রস্ত হবে। সে কারণে তাকে বদরগঞ্জ থানা থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ আরও অনেক অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিসুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, ‘১৯ ডিসেম্বর তিনি সিইসিকে পুরো বিষয়টি অবহিত করেছি। এ ছাড়াও আগের দিন ১৮ ডিসেম্বর সিইসি বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছি। যা সিইসির কার্যালয় রিসিভ করে সিল-স্বাক্ষর প্রদান করেছে।’ তিনি লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করার পর তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও কোনও প্রতিকার পাননি বলে জানান।
সার্বিক বিষয়ে জানতে বদরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল লতিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি শতভাগ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। বর্তমান এমপি ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে আমি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ও পরে দেখাও করিনি, তাকে প্রটোকলও দিইনি। আমি আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে কোনও ধরনের পক্ষপাতিত্ব করিনাই। কোনও মহল তাকে ভুল বুঝিয়েছে।’








