নরসিংদীতে সম্প্রতি আলোচিত জোড়া খুনের ঘটনায় জেলা পুলিশের অভিযানে গুলিবিদ্ধ দুই আসামি মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার ভোর রাত সাড়ে ৩টায় অভিযান চালানো হয়। এসময় জহিরুল ইসলাম (২৫) নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত আরও দুইজন রাকিব (২৪) ও হোসেনকে (২২) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাকিব মারা যান। ঢামেকের কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল ১০টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও দুটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোররাত সাড়ে ৩টায় এ ঘটনা ঘটে। জোড়া খুনের ঘটনায় নিহত খোকন খন্দকারের ভাই সেলিম খন্দকার বাদী হয়ে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত পরিচয় চার পাঁচজনকে আসামি করে সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ এই অভিযান চালায়।
উল্লেখ্য নরসিংদীতে চাঁদা দাবির প্রতিবাদ করায় আরিফ খন্দকার (৩২) ও খোকন খন্দকার (৩৩) নামে দুই যুবককে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। নিহত আরিফ নরসিংদী পৌর এলাকার ভাগদী মহল্লার আব্দুল মতিন খন্দকারের ছেলে ও খোকন মোরশেদ খন্দকারের ছেলে। বুধবার সন্ধ্যায় ভাগদী এলাকার একটি মাঠ থেকে তাদের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশ ও নিহতদের স্বজনরা জানান, নিহত খোকন খন্দকারের বোন জামাই ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম ভাগদী মহল্লায় একটি নতুন বাড়ি নির্মাণ করছিলেন। কয়েকদিন যাবৎ কয়েকজন সন্ত্রাসী নির্মাণাধীন বাড়ির মালিক রফিকের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। বুধবারও সন্ত্রাসীরা চাঁদা দাবি করলে বাড়ির মালিক রফিকুল ইসলাম তার শ্যালক খোকন খন্দকারকে খবর দেন। খবর পেয়ে খোকন খন্দকার ও আরিফ খন্দকার ঘটনাস্থলে গেলে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তাদের তর্কবিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা দুজনকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা পেটে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুজনকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় বুধবার দিনগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে শহরতলীর নাগরিয়াকান্দি এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে পাল্টা গুলি ছোড়ে পুলিশ। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে জহিরুল (২৫), রাকিব (২৪) ও হোসেন (২২) নামে তিনজন গুরুতর আহত হন। আহতদের নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে জহিরুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। পরে গুরুতর আহত অপর দুইজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নরসিংদী জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক এরশাদ মাহমুদ জানান, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশ। এদের মধ্যে বুকে গুলিবিদ্ধ জহিরুল ইসলামকে মৃত ও পায়ে গুলিবিদ্ধ দুইজনকে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। আহত দুইজনকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।
নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: গোলাম মোস্তফা বলেন, জোড়া খুনের ঘটনায় রাতে মামলা দায়ের হওয়ার পর আসামিদের ধরতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাগরিয়াকান্দি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এসময় পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে তিনজন আহত হয় হাসপাতালে নেওয়ার পর একজন মারা যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও দুটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
/এফএস/








