কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে মাদকের বিস্তার বাড়ছে দিন দিন। সেখানকার তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। এ কারণে ক্যাম্পে বেড়েছে নানা অপরাধ। এই অবস্থায় তরুণদের মাদকমুক্ত রাখতে সরকার নতুন বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের জাতীয় খেলা চিনলোন এবং ফুটবল খেলার আয়োজন করেছে।
সোমবার দুপুরে উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮-এপিবিএনের উদ্যোগে ‘মাদককে না বলুন, ক্রীড়াকে হ্যাঁ বলুন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মিয়ানমারের জাতীয় খেলা চিনলোন টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করেছেন অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আমির জাফর। এর আগে আরআরআরসির তত্ত্বাবধানে ৩২টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১২টি দল নিয়ে রোহিঙ্গা ফুটবল লিগ শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে ৮-এপিবিএনের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আমির জাফর বলেন, ‘খেলাধুলা শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটায়। তাই ক্যাম্পে যুবসমাজকে খেলাধুলার মাধ্যমে মাদক থেকে বিরত থাকতে পারে। ক্যাম্পে তরুণরা যাতে মাদক থেকে দূরে থাকে, সেজন্য এই খেলাধুলার আয়োজন করা হয়েছে। তা ছাড়া খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে মাদক থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।’
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে আরকান রোহিঙ্গা ফুটবল ফেডারেশনের ব্যানারে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে রোহিঙ্গা ফুটবল লিগ ২০২৩-২৪ অনুষ্ঠিত হয়। এতে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রিত ৩২ শরণার্থী শিবিরের ১২টি রোহিঙ্গাদের দল অংশ নেয়। দলগুলোকে মিয়ানমারের আরকান রাজ্যের টাউনশিপ এলাকা ভিত্তিক ভাগ করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে দুপুরে পঞ্চমতম ফুটবল ম্যাচে এক গোলে বিজয়ী হয় রাখাইনের নাকফুড়া নামের দল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আরআরআরসি প্রতিনিধি ক্যাম্প ইনচার্জ (উপসচিব) মো. মিনহাজুল ইসলাম এবং ১৪ এপিবিএনসহ দাতা সংস্থার কর্মকর্তারা।
ক্যাম্প ইনচার্জ বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে এ দেশে ১২ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন। মূলত তাদের ক্রীড়া এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সজাগ জাগ্রত করতে ক্যাম্পভিত্তিক এই খেলাধুলার আয়োজন করেছি। মিয়ানমারে থাকাকালীন এলাকা অনুযায়ী ১২টি দলকে ভাগ করা হয়েছে। এটি যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে তার প্রমাণ আজকের খেলায় ৩০ হাজারের বেশি মানুষের অংশগ্রহণ। খেলাধুলা মানুষকে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ থেকে মুক্ত রাখে।’
ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ রফিক বলেন, ‘ক্যাম্পগুলোতে চিনলোন ও ফুটবল খেলা আয়োজনের জন্য সরকার অত্যন্ত প্রশংসার দাবিদার। এতে ক্যাম্পের তরুণরা সুস্থ ও সজাগ থাকবে। বিশেষ করে মাদক থেকে দূরে থাকবে।’









