খুলনায় চিকিৎসকদের ধর্মঘট চলছে, দুর্ভোগে রোগীরা

খুলনা প্রতিনিধি
০৫ মার্চ ২০১৬, ১৮:৪৭আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৬, ১৯:১০

হৃদরোগে আক্রান্ত মাকে নিয়ে বুধবার বিকালে নড়াইল থেকে খুলনার এই হাসপাতালে আসি। সেদিন আর ডাক্তার পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার ধর্মঘটের কারণেও ডাক্তাররা দেখেননি। শুক্রবার বন্ধের দিনেও ডাক্তার নেই। শনিবারও ধর্মঘটের কারণে বড় ডাক্তাররা আসেননি। তিনদিন হাসপাতালে থেকেও সুষ্ঠু সেবা পাচ্ছি না। এখন মায়ের শরীরের আরও অবনতি হচ্ছে। থেকে থেকে খিঁচুনি হচ্ছে। বিছানা না পেয়ে বারান্দার মেঝেতে থেকেই সেবা পাওয়ার অপেক্ষা করছি। এভাবেই খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চলা ধর্মঘটের চিত্র তুলে ধরলেন নড়াইলের নড়াগাতি থেকে আসা কবিতা বেগম।

খুলনায় চিকিৎসকদের ধর্মঘটে নাকাল রোগীরা বাধ্য হয়ে যাচ্ছেন বাইরের ডায়গনস্টিক সেন্টারে

একদিন বিরতির পর শনিবার সকাল থেকে খুলনায় চিকিৎসকরা ধর্মঘট পালন শুরু করেন। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু ধর্মঘটের কারণে সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জরুরি সেবা প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য রোগীদের নেওয়া হচ্ছে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। অথচ সকল প্রকার পরীক্ষার সুযোগ সুবিধা রয়েছে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

খুলনার তেরখাদা উপজেলার মধুপুরের মো. দিদার শেখ বলেন, শুক্রবার রাতে প্রতিপক্ষের হামলায় পা ভেঙে যাওয়ার পর প্রতিবেশী কামরুল মিনাকে হাসপাতালে আনা হয়। কিন্তু ডাক্তার না থাকায় তার কোনও চিকিৎসাই হয়নি। এক্সরে পর্যন্ত করানো হয়নি। শনিবার ইন্টার্নি ডাক্তারদের স্লিপ নিয়ে হাসপাতালের বাইরের একটি ডায়গনস্টিক সেন্টারে গিয়ে এক্সরে করা হয়। এখন আসল চিকিৎসা কবে হবে জানা নেই।

সাতক্ষীরা থেকে আসা সিরাজুল ইসলাম বলেন, তার শালিকার সিজার হওয়ার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। কিন্তু এখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া যাচ্ছে না।

ডুমুরিয়া থেকে আসা রত্না বেগম বলেন, শনিবার সকালে সড়ক দুর্ঘটনায় মা নুরুন্নাহার বেগম আহত হন। হাসপাতালের এক্সরে বিভাগ বন্ধ থাকায় বাইরে থেকে এক্সরে করাতে হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) খুলনার সভাপতি ডা. বাহারুল আলম বলেন, হামলাকারী ইউপি চেয়ারম্যান এস এম অহিদুজ্জামান গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত এ ধর্মঘট চলবে। এ কর্মসূচি চলাকালে হাসপাতাল ও ক্লিনিকে জরুরি সেবা সক্রিয় রাখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত অবস্থায় মেডিক্যাল অফিসার ডা. শেখ আবদুল্লাহ আল মামুনকে মারধর করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান এসএম অহিদুজ্জামান। হামলায় ডা. মামুনের দুটি দাঁত ভেঙে যায়।

এ হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) খুলনা শাখা, প্রাইভেট মেডিক্যাল প্রাক্টিশনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমপিএ) ও প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিসিডিওএ) যৌথভাবে ধর্মঘট ডাকে।

  খুলনায় চিকিৎসকদের ধর্মঘটে চরমে দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা

এদিকে, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান কালু শনিবার দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ডাক্তারকে মারধরের কারণে তেরখাদা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান এস এম অহিদুজ্জামানকে দল থেকে বহিষ্কার করাসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

 

/বিটি/টিএন/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ঈদুল আজহা: ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৮১
ঈদুল আজহা: ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৮১
এবছরই সব স্কুলে ফিডিং চালুর পরিকল্পনা, পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা: শিক্ষামন্ত্রী
এবছরই সব স্কুলে ফিডিং চালুর পরিকল্পনা, পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা: শিক্ষামন্ত্রী
দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৬২ জন আহত
দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৬২ জন আহত
বাংলাদেশ সফরের ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি
বাংলাদেশ সফরের ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের