মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেদেশে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে মর্টার শেল ও ভারী গোলার বিকট শব্দ ভেসে আসছে কক্সবাজারে টেকনাফ সীমান্তে। গত তিন দিন বন্ধের পর আবারও মিয়ানমারের গোলার বিকট শব্দে টেকনাফ সীমান্তবর্তী মানুষের মাঝে আতঙ্ক বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার ভোর থেকে টেকনাফ সীমান্তবর্তী মংডু শহরের আশপাশ থেকে ভারী গোলাবর্ষণের বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে উঠেছে সীমান্ত এলাকা। এদিকে চলমান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিদ্রোহী আরাকান আর্মি এবং সে দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে আবারও তুমুল সংঘাত চলছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ পৌরসভার সীমান্তের বাসিন্দা মোহাম্মদ কাদের বলেন, ‘দুই দিন বন্ধের পর সীমান্তের ওপারে আবারও ব্যাপক যুদ্ধ চলছে। এ কারণে এপারে বিকট গোলার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। সেদেশে থাকা রোহিঙ্গারা গ্রাম ছেড়ে পালাচ্ছে। অনেকে এখানে পালিয়ে আসার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি সেখানকার বিজিপিও ঢোকার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।’
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃষ্টির মধ্যেও বৃহস্পতিবার ভোর থেকে টেকনাফ সীমান্তে গোলার বিস্ফোরণ শুরু হয়। বিকাল পর্যন্ত এমন বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিদ্রোহীরা মংডু শহর নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ জন্য একের পর এক হামলা হচ্ছে। আর এসব কারণে ওই শহরের পশ্চিম সীমান্তের টেকনাফ পৌরসভা, সাবরাং ইউনিয়ন ও দক্ষিণের সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, ‘দু-একদিন বন্ধ থাকার পর আবারও সীমান্তের রাখাইন রাজ্যের মংডু শহরের আশপাশে সংঘাত অনেক বেড়ে গেছে। ফলে সীমান্ত এপারে গোলার বিকট পাওয়া যাচ্ছে। সীমান্তে বসবাসকারী গোলার শব্দ এক ধরনের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার গোলার শব্দ নিত্যদিনের ঘটনা হওয়ায় অনেকে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। আমরা সীমান্তে বসবাসকারীদের খোঁজখবর রাখছি।’
এদিকে, মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মির সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনীর তুমুল সংঘর্ষ চলছে। টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত ৫৪ কিলোমিটার এলাকায় নাফ নদে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি এবং বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সদস্যরা টহল বৃদ্ধি করেছে। যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সব সময় প্রস্তুত বিজিবি ও কোস্টগার্ড।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আদনান চৌধুরী বলেন, ‘সীমান্তের বাসিন্দারা আজও ওপার থেকে গোলার বিকট শব্দ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। আমাদের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত আছেন। পাশাপাশি অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যরা তৎপর রয়েছেন।’








