মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আলিশারকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরি কাম প্রহরী সুমন মিয়ার হাতুড়ি পেটার ভয়ে স্কুলে যাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে অভিভাবকদের মাঝে বিরাজ করছে ক্ষোভ ও তীব্র অসেন্তোষ।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, মানসিকভাবে অসুস্থ সুমন মিয়া গত ৫ মার্চ লোহার হাতুড়ি দিয়ে পঞ্চম শ্রেণির পাঁচ শিক্ষার্থী লিজা আক্তার, শিমলা আক্তার, রাসেদা আক্তার, শফিকুল ইসলাম ও নূরুজ্জামান মৌলাদকে পিটিয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত করে। এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বাড়িতে নিয়ে যান।
ওই স্কুলের সব মিলিয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ২৮২ জন। এ ঘটনার পর থেকে স্কুলে অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকছে। শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে আনতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন, তবুও কোনও ফল পাচ্ছেন না।
এ কারণে বৃহস্পতিবার অভিভাবকদের সমন্বয়ে সভার আহ্বান করা হয়। কিন্তু তা পিছিয়ে আগামী শনিবার সকাল ১১টায় করা হবে।
এ ঘটনায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মঙ্গলবার (৮ মার্চ) স্কুলের এসএমসি সভাপতিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে দফতরি সুমন মিয়ার নিয়োগের চুক্তিনামা বাতিল এবং তার বিরোদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করার নির্দেশ দেন। এ ক্ষেত্রে প্রথম আদেশ বাস্তবায়ন হলেও দ্বিতীয় আদেশ বাস্তবায়ন করা হয়নি।
ঘটনার দিন বিকালে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার জ্যোতিশ রঞ্জন দাসের নেতৃত্বে স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে করা হয়। ৬ মার্চ উপজেলা শিক্ষা আফিসার মো. মোশারফ হোসেন স্কুল পরিদর্শন করেন ও আহত শিক্ষার্থীদের বাসায় যান।
বুধবার বিকালে সরজমিনে স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, পঞ্চম শ্রেণির ক্লাসে মাত্র চারজন শিক্ষার্থী রয়েছে। অন্য ক্লাস গুলোতেও উপস্থিতির সংখ্যা কম। আর যারা এসেছে তাদের মনেও ভয় কাজ করছে। এ ঘটনার পর থেকেই ভয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে বলে জানান শিক্ষকরা।
/এসটি/








