কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত দেশের অন্যতম প্রাচীন সংবাদপত্র ‘সাপ্তাহিক আমোদ’-এর সম্পাদক, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে মামলা করেছেন বিএনপি নেতা ও জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ফজলুল করিম। তিনি কুমিল্লা মহানগর বিএনপির ৯নং ওয়ার্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক।
মামলার আসামিরা হলেন– সাপ্তাহিক আমোদের সম্পাদক বাকীন এম এ রাব্বী (বাকীন রাব্বী), ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মহিউদ্দিন মোল্লা, প্রতিবেদক তৈয়বুর রহমান সোহেল।
মামলার সাক্ষীরা হলেন– কুমিল্লা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক উৎবাতুল বারী আবু, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, আজমীর হোসেন শরীফ, সোহাগ হোসেন ও বিএনপি নেতা জহিরুল হক।
জানা গেছে, কুমিল্লা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও তার মেয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র তাহসীন বাহার সূচনা, কুমিল্লা মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ সহিদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম রিন্টুসহ এক ডজন নেতা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার বিষয় নিয়ে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করে সাপ্তাহিক আমোদ। গত ৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই পত্রিকার প্রথম পাতায় লেখা হয় ‘বিএনপি নেতাদের সহায়তায় পালালেন ওরা’। সংবাদটিতে লেখা হয়, ‘কুমিল্লা মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের সঙ্গে জড়িত শীর্ষস্থানীয় তিন নেতা এর সঙ্গে জড়িত। যাদের দুজনের নামের আদ্যক্ষর আ এবং ও।’ এ সংবাদ প্রকাশের পর পুরো কুমিল্লাতে বিষয়টি টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়।
বাদী মামলায় উল্লেখ করেন, ওই সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন এবং কোনও তথ্যসূত্র নেই। ওই সংবাদকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা মহানগর ও জেলা বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও মানহানিকর হয়েছে এবং বাদী একজন সক্রিয় নেতা হিসেবে সংক্ষুব্ধ হয়েছেন। যার ফলে বাদী ৫০০/৫০১/৫০২ ধারার বিধান মতে অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানান।
এ বিষয়ে সাপ্তাহিক আমোদের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি মহিউদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘প্রকাশিত সংবাদে আমরা কারও নাম উল্লেখ করিনি। আমাদের সোর্স থেকে পাওয়া তথ্যমতে নিউজে আমরা কয়েকটি অক্ষর দিয়েছি মাত্র। এর কারণেই মামলা দায়ের হয়েছে বলে শুনেছি। যেহেতু আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে সুতরাং আমরা সেটি আইনিভাবেই মোকাবিলা করবো।’
সংবাদের প্রতিবেদক তৈয়বুর রহমান সোহেল বলেন, ‘এটি একটি হয়রানিমূলক মামলা। এই সংবাদে আমরা কারও নাম প্রকাশ করিনি। কেউ যদি মনে করতেন আমরা তাকে ইঙ্গিত করছি, তিনি আমাদের জানাতে পারতেন। কিন্তু তা না করে আমাদের স্বাধীন সাংবাদিকতায় বাধা দিতে চেষ্টা করেছেন, যা কখনোই কাম্য নয়। আমরা আইনিভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করবো।’
কুমিল্লা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক উৎবাতুল বারী আবু বলেন, ‘মামলার বিষয়টি শুনেছি। আমরা দেখছি কী করা যায়।’
এদিকে, মামলার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে কুমিল্লার কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এই মামলা প্রত্যাহার না হলে মানববন্ধন ও তীব্র আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন তারা।
কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী এনামুল হক ফারুক বলেন, ‘এসব হয়রানিমূলক মামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায়। যে সংবাদের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে, সেখানে কারও নাম নেওয়া হয়নি। আদ্যক্ষরে লেখা হয়েছে। কেউ যদি মনে করতেন তাকে মেনশন করা হয়েছে, তবে সেটি তিনি পত্রিকা কর্তৃপক্ষের কাছে স্পষ্ট করার জন্য লিখিত অনুরোধ কিংবা প্রতিবাদ জানাতে পারতেন। কিন্তু তা না করে হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তা ছাড়া সাংবাদিকদের বিচারের জায়গা প্রেস ইনস্টিটিউট। সেখানেও আবেদন করতে পারতেন।’
এ বিষয়ে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মাসুদ হাসান জানান, মামলাটি আমলে নিয়েছেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমলি আদালতের বিচারক আব্বাস উদ্দিন। তিনি মামলাটি পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সাপ্তাহিক আমোদ ১৯৫৫ সাল থেকে প্রকাশিত হয়ে আসছে।









