স্বাধীনতার পর থেকে ড্রেজিং হয়নি

শুকিয়ে যাচ্ছে সাঙ্গু-মাতামুহুরী নদী

বান্দরবান প্রতিনিধি
১৪ মার্চ ২০১৬, ১৪:৩২আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৬, ১৪:৩২

সাঙ্গু নদী

বান্দরবান পার্বত্য জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদী শুকিয়ে নাব্যতা হারাচ্ছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত ড্রেজিং হয়নি এই নদীতে। এদিকে নৌ চলাচল বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি জেলা শহরে খাওয়ার পানিরও সংকট দেখা দিয়েছে। বিপাকে পড়েছে নদী নির্ভর জেলেরা।

 বান্দরবান ৮নং ওয়ার্ড কমিশনার হাবিবুর রহমান খোকন বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে জেলার নদী দুটিতে একবারও ড্রেজিং করা হয়নি। ড্রেজিং না করার কারণে নদীর তলদেশের উচ্চতা ক্রমেই বাড়ছে।

বান্দরবানের মৃত্তিকা ও পানি সংরক্ষণ কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাহাবুবুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বনাঞ্চল উজাড়, পাহাড় কর্তন, পাথর উত্তোলনের ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। পাহাড় কর্তন করে, বাড়িঘর ও রাস্তা তৈরিসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের কারণে কর্তনকৃত মাটি বর্ষায় নদীতে নেমে আসে। ফলে দিন দিন ভরাট হচ্ছে নদীগুলো।

শুকিয়ে যাচ্ছে নদী

স্থানীয় পরিবেশ আন্দোলনের নেতা ক্যা হ্লা চিং মার্মা বলেন, নির্বিচারে বনাঞ্চল উজাড় করা এবং বিভিন্ন ঝিরি (ছোট ঝর্ণা) থেকে পাথর আহরণের ফলে নদীর পানি কমে যাচ্ছে।

নদী ভরাট হওয়ায় বিলুপ্ত হওয়ার পথে বিভিন্ন প্রজাতির মৎস্য সম্পদ। এতে বিপাকে পরা স্থানীয় জেলে বিন্দু বালা জানান, প্রায় চল্লিশ বছর ধরে নদীর মাছ ধরে আমরা জীবিকা নির্বাহ করে আসছি, কিন্তু চলতি মৌসুমে নদীতে বড় বড় চর জেগে ওঠায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দেখা মিলছে না।

এক সময় সাঙ্গু নদী দিয়ে বান্দরবান জেলার রুমা, থানচি এবং মাতামুহুরী নদীপথ দিয়ে আলীকদম ও লামার বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় যাতায়াত করতো স্থানীয়রা। বর্তমানে উপজেলাগুলোতে সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হলেও এখনও রুমা, থানচির রেমাক্রি, ছোট মদক, বড়মদকসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকা এবং আলীকদম উপজেলার দুর্গম পোয়ামুহুরি, কুরুকপাতাসহ বিভিন্ন এলাকাগুলোতে যেতে হয় নৌকাতে। কিন্তু নদী শুকিয়ে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে নৌ চলাচল।

নদী

এছাড়া শহরের পৌর পানি সরবরাহ ব্যবস্থাও সরাসরি সাঙ্গু নদীর ওপর নির্ভরশীল। শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি কমে যাওয়ার কারণে জেলা শহরের পানি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আলতাফ হোসেন বলেন, নদীর নাব্যতা হারানোর প্রভাব পড়েছে বান্দরবানের কৃষি উৎপাদনে ওপরেও। পানির অভাবে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে।

বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী বিভাগের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন বলেন, ‘পানির স্তর নিচে নেমে বিভিন্ন ঝিরি ঝর্ণা শুকিয়ে নদীতে পানি শূন্যতা দেখা দেয়, দ্রুত এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছি আমরা।’

 

/এনএস/টিএন/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম