কুড়িগ্রামের মজিদা আদর্শ ডিগ্রি কলেজ

অ্যাডহক কমিটি নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘তামাশা’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৫ অক্টোবর ২০২৪, ২১:৪২আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৪, ২১:৪২

কুড়িগ্রাম শহরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মজিদা আদর্শ ডিগ্রি কলেজ নিয়ে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। এবার কলেজের অ্যাডহক কমিটি নিয়ে চলছে একের পর এক নাটকীয়তা। ‘আওয়ামীপন্থি’ হিসেবে পরিচিত কলেজটির সাবেক এক অধ্যক্ষকে প্রতিষ্ঠানটির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ঘোষণা, বাতিল ও পুনর্বহাল নিয়ে গত এক মাসে তিন বার পত্র চালাচালি করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এমন ঘটনাকে ‘তামাশা’ বলছেন কলেজটির শিক্ষকরা।

কলেজ সূত্র জানায়, ২০২৩ সালে গভর্নিং বডির সভাপতি নিয়ে নানা নাটকীয়তার পর কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গত ৯ সেপ্টেম্বর সাবেক অধ্যক্ষ খাজা শরীফ উদ্দিন আলী আহমেদকে (রিন্টু) সভাপতি এবং বিএনপি নেতা এসএম আশরাফুল হক রুবেলকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য করে অ্যাডহক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সাবেক অধ্যক্ষ খাজা শরীফ উদ্দিন আলী আহমেদকে (রিন্টু) নিয়ে শুরু হয় নানা বিতর্ক। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাবেক অধ্যক্ষ রিন্টু ২০২২ সালের জুন মাসে অবসরে যান। আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রিন্টু কুড়িগ্রাম-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. হামিদুল হক খন্দকারের নিকটাত্মীয়। গত ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর তিনি সাবেক এমপি’সহ টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করতেও গিয়েছিলেন। অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ঘোষণার পর তার আওয়ামী ঘনিষ্ঠতার বিভিন্ন সময়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে কলেজের শিক্ষক ও স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিতর্কিত সাবেক অধ্যক্ষকে অ্যাডহক কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছেন অনেকে।

সমালোচনার মধ্যে গত ১ অক্টোবর অ্যাডহক কমিটি সভাপতি ও বিদ্যোৎসাহী সদস্যের নাম পরিবর্তন করে পত্র জারি করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। চিলমারী সরকারি কলেজের সাবেক সহকারী অধ্যাপক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হাসিবুর রহমানকে সভাপতি এবং বিএনপিপন্থি অ্যাডভোকেট মো. রুহুল আমিনকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য করে নতুন পত্র জারি করা হয়। খাজা শরীফ উদ্দিন আলী আহমেদকে (রিন্টু) বাদ দেওয়ায় শিক্ষকদের মনে স্বস্তি ফিরলেও বিএনপি নেতা এসএম আশরাফুল হক রুবেল বাদ পড়ায় স্থানীয় বিএনপির একটি অংশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় মজিদা আর্দশ ডিগ্রি কলেজ। শুরু হয় নানা গুঞ্জন।

গুঞ্জন সত্যি করে ৩ অক্টোবর আবারও অ্যাডহক কমিটি পরিবর্তন করে পত্র দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ভাইস চ্যান্সেলরের (ভিসি) অনুমোদনক্রমে কলেজ পরিদর্শক মো. আব্দুল হাই সিদ্দিক সরকার সাক্ষরিত পত্রে জানানো হয়, ‘১ অক্টোবর জারিকৃত পত্রটি বাতিল করা হলো।’ একই সঙ্গে ৯ সেপ্টেম্বর জারিকৃত পত্রের সূত্র উল্লেখ করে খাজা শরীফ উদ্দিন আলী আহমেদকে (রিন্টু) সভাপতি ঘোষণা করা অ্যাডহক কমিটি বহাল রাখা হয়।

অ্যাডহক কমিটি নিয়ে এমন বাদ-বহাল ‘খেলায়’ বিব্রত কলেজটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, ‘কমিটি নিয়ে এমন ঘটনা প্রমাণ করে কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়ন নয়, ভিন্ন কোনও উদ্দেশ্যে এমন নাটক শুরু হয়েছে। এতে কলেজের সঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে।’

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করে কলেজটির সাবেক এক শিক্ষক প্রতিনিধি বলেন, ‘আমরা বিব্রত। তামাশা শুরু হয়েছে। শিক্ষকরা পাঠদান করবেন নাকি কমিটি নিয়ে খেলা দেখবেন!’

ওই শিক্ষক বলেন, ‘এটা ঠিক সাবেক অধ্যক্ষ খাজা শরীফ উদ্দিন আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ। তার দায়িত্বকালে বিভিন্ন পদে নিয়োগ নিয়ে বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও তিনি ভুয়া সনদ দিয়ে সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম টুকুকে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি করেছিলেন। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগ আমলে নানা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ায় তাকে নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে।’

এই শিক্ষক নেতা আরও বলেন, ‘জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ এবং গত সংসদ নির্বাচনের পর এই আসনের সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে খাজা শরীফ উদ্দিন আলী আহমেদ নানা সুবিধা নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কলেজ তহবিলের অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগও রয়েছে।’

সভাপতি পদ পাওয়ার পরও বাতিল হওয়া প্রসঙ্গে বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হাসিবুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দোসর ও দালাল বলে চিহ্নিত একজন ব্যক্তিকে সভাপতি করায় অনেকের মতো আমিও আশ্চর্য হয়েছি। তার বিরুদ্ধে অর্থ কেলেঙ্কারির সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকার পরও তাকে কীভাবে ওই কলেজের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হলো সেটা বোধগম্য নয়।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক অধ্যক্ষ ও নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি খাজা শরীফ উদ্দিন আলী আহমেদ বলেন, ‘অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ মিথ্যা। আমি অধ্যক্ষ থাকাকালে সরকারি নির্দেশ পালন করেছি। কারও দোসর ছিলাম না।’ তবে অবসরের পরও আওয়ামী ঘনিষ্ঠতা ও বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করতে যাওয়ার প্রশ্নে কোনও সদুত্তর দেননি সাবেক এই অধ্যক্ষ।

কলেজের অধ্যক্ষ আবেদ আলী বলেন, ‘আমি বিষয়টি ভালো চোখে দেখছি না। অ্যাডহক কমিটি নিয়ে যে চিঠিগুলো জারি হয়েছে তাতে আমার মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। সাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দায়িত্বকালে অর্থকেলেঙ্কারিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ আমিও জেনেছি।’

কমিটি নিয়ে এমন ‘তামাশা’র বিষয়ে জানতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক এএসএম আমানুল্লাহকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা দিয়ে কথা বলতে চাইলেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।

/এমএএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম