নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ স্থগিত রাখতে ৫ম বারের মতো আবেদন করেছেন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন ও চাকুরিচ্যুত র্যাব কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ খান।
সোমবার নির্ধারিত সাক্ষ্যগ্রহণের দিন এই দুইজনের পক্ষের আইনজীবীরা সাক্ষ্যগ্রহণ স্থগিতর জন্য আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করে দেওয়ার পর তারা সময় প্রার্থনা করেন। পরে আদালত আগামী ২১ মার্চ এই দুইজনের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন। ওই তারিখে মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটির অসমাপ্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।
সোমবার সাত খুনের ঘটনার দুটি মামলায় ১২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জন সাক্ষীকে তলব করা হলেও মাত্র ২ জন উপস্থিত থাকায় তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সোয়া ১২টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে সাত খুনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ২৩ আসামির উপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
শুরুতে তারেক সাঈদ ও নূর হোসেনের পক্ষে আইনজীবী সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আশরাফুজ্জামান ও গোলাম কিবরিয়া আদালতকে জানান, ৭ খুন মামলা বাতিল ও অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। রিটের নিষ্পত্তি এখনও হয় নাই। তাই এখন বাদীকে (সেলিনা ইসলাম বিউটি) এই দুই জনের (তারেক সাঈদ ও নূর হোসেন) পক্ষে জেরা করা যাচ্ছে না। সময় প্রয়োজন। পরে সময় চাইলে আদালত ২১ মার্চ পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।
তবে সোমবার আদালতে উপস্থিত ২৩ জনের মধ্যে তারেক সাঈদ ও নূর হোসেন ছাড়া অন্য ২১ জন এবং পলাতক ১২ আসামির পক্ষের আইনজীবীরা উপস্থিত দুই সাক্ষীকে জেরা করেন।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, ১৪ মার্চ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১১ জন সাক্ষীকে তলব করা হয়েছিল। সাত খুনের ঘটনায় নিহত অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের গাড়িচালক ইব্রাহিম এর ভাই মো. ইউসুফ ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বন্দর এলাকার মোহাম্মদ হোসেন আদালতে উপস্থিত হন। এই দুইজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।
সাত খুনের ঘটনায় একটি মামলার বাদী বিজয় কুমার পাল হলেন নিহত অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের জামাতা ও অপর বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটি হলেন নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী।
দুটি মামলাতেই অভিন্ন সাক্ষী হলেন ১২৭ জন। এই কারণে উভয় মামলার সাক্ষীদের একই সঙ্গে দুই মামলায় জেরা করা হয়।

এদিকে সোমবার ইতোপূর্বে সাক্ষ্য হয়ে যাওয়া নূর হোসেনের চার সহযোগীর আইনজীবী সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আশরাফুজ্জামান আবারও সেলিনা ইসলাম বিউটিকে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন। পরে আদালত সেটা মঞ্জুর করলে, এদিন বিউটিকে ওই চারজনের পক্ষে আবারও জেরা করা হয়। ওই চারজন হলো, রহম আলী, আবুল বাশার, আলী মোহাম্মদ ও গোলাম মতুর্জা চার্চিল।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান অভিযোগ করেন, শুরুতে মামলার যে গতি ছিল সেটা এখন কমিয়ে আনা হয়েছে। বার বার আসামি পক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের কারণে মামলাটি ভিন্ন দিকে ধাবিত হচ্ছে। এতে করে সুষ্ঠু বিচার নিয়ে শংকা আছে।
প্রসঙ্গত ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তাঁর গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও ১ মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
/জেবি/টিএন/








