রবিবার রাতে বাবা মায়ের সঙ্গে বাড়ির পাশের মাহফিলে যোগ দিতে গিয়েছিল জান্নাতি আক্তার (১১)। সেখান থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয় ৫ম শ্রেণির এই ছাত্রী। সারারাত খোঁজাখুজি করেও তাকে কোথাও পায়নি স্বজনরা। সোমবার সকালে গাঁয়ের পাশের ভারাঘাটা খালে পাওয়া যায় এই কিশোরীর ভাসমান লাশ। নিহত জান্নাতি বারইখালী মানিক মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী। সে উপজেলার উত্তর বারুইখালী গ্রামের জালাল উদ্দিন শেখের মেয়ে।
সোমবার বেলা ১১টায় মোরেলগঞ্জ উপজেলার বারইখালী ইউনিয়নের উত্তর বারইখালী গ্রামের ভরাঘাটা খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।
এদিন দুপুরে শিশু জান্নাতি হত্যায় জড়িত সন্দেহে সেলিনা বেগম (৫০) নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। তাকে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সেলিনা একই গ্রামের সরোয়ার হোসেনের স্ত্রী।
মোরেলগঞ্জ থানার ওসি মো.রাশেদুল আলম জানান, সকালে উত্তর বারইখালী গ্রামের জাহাঙ্গীর হাওলাদার মাঠে গরু নিয়ে যাওয়ার সময় পাশের একটি খালে শিশু জান্নতির মৃতদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। নিহতের শরীরে কোনও আঘাতে চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
ওসি আরও বলেন, রবিবার রাতে বাবা মায়ের সঙ্গে বাড়ির পাশে মাহফিল শুনতে যায় জান্নাতি। সেখান থেকে সে নিখোঁজ হয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা রাতে অনেক খোঁজাখুজি করেও তাকে পায়নি। মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বাগেরহাটের সহকারী পুলিশ সুপার (মোরেলগঞ্জ সার্কেল এএসপি) এনামুল হক মিঠু জানান, নিহত জান্নতির বাবা জালাল উদ্দিন শেখের সঙ্গে তার ফুপাতো ভাই অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য সরোয়ার হোসেনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জের ধরে জান্নাতিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
/জেবি/টিএন/








