রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরীফুল ইসলামকে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে রংপুর মেট্রোপলিটন আমলি আদালত ২-এর বিচারক আসাদুজ্জামানের আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে শুনানি শেষে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সোমবার রাতে সাবেক প্রক্টর ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শরীফুল ইসলামকে নগরীর চারতলা মোড় এলাকার বাসা থেকে আটক করে পিবিআই।
এদিকে, বিকালে আদালতে শরীফুল ইসলামকে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী শামীম আল মামুন ও রোকনুজ্জামান। আইনজীবী রোকনুজ্জামান আদালতে শুনানিতে অংশ নিয়ে বলেন, ‘আসামি শরীফুল ইসলাম ঘটনার সময় বেরোবির প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলকারীদের ওপর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডারদের হামলায় প্রত্যক্ষ সহায়তা করেছেন। তার নির্দেশেই আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। যেদিন আবু সাঈদ নিহত হন সেদিনের (১৬ জুলাই) সিসি টিভির ফুটেজে সাবেক প্রক্টর আসামি শরীফুল ইসলামকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের দমাতে পুলিশের সঙ্গে অবস্থান করতে দেখা গেছে। সে কারণে আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় আরও কারা এবং কোন কোন পুলিশ কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী জড়িত ছিলেন তার বিস্তারিত জানতে আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।’
অন্যদিকে, আসামি শরীফুল ইসলামের পক্ষে তার ছোট বোন ঢাকা জজ আদালতের আইনজীবী সাবিহা আখতার পপি আদালতে রিমান্ডের বিরোধিতা করে বলেন, ‘আসামি আমার আপন ভাই। আমি বোন হিসেবে নয়, আমার মক্কেলের পক্ষে আদালতে আইনজীবী হিসেবে এসেছি। আসামির নাম এজাহারে নেই, তাকে মিথ্যাভাবে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল, সেই তদন্ত রিপোর্টে তার নাম নেই। আসামি যদি অপরাধী হতেন তাহলে ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকতেন। বরং ঘটনার পর থেকে নিয়মিতভাবে শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সঙ্গে তার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ছিল।’
এদিকে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার জাকির হোসেন পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে বলেন, ‘ন্যায়বিচারের স্বার্থে আসামির রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছি।’
আদালতে মামলার শুনানি চলাকালে বিচারক আসামি কোনও বক্তব্য দিতে চান কিনা জানতে চাইলে শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘স্যার আমাকে অসম্মানীত করবেন না। আমাকে জামিন দিন, প্রতিদিন পিবিআই অফিসে গিয়ে আমার বক্তব্য উপস্থাপন করবো। আমাকে রিমান্ডে দেবেন না। আমি প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করেছি, কিন্তু বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পক্ষেই ছিলাম। এমনকি নিহত আবু সাঈদও বিষয়টি জানতো।’
এদিকে, শরীফুল ইসলামকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে বেরোবির শতাধিক শিক্ষার্থী নগরীর কেরানীপাড়া এলাকায় অবস্থিত পিবিআই কার্যালয় ঘেরাও করে অবস্থান করেন। বেলা ১২টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান কালে পিবিআই পুলিশ সুপার শিক্ষার্থীদের দুজন প্রতিনিধিকে ডেকে নেন। সেখানে তাদের সাথে বেশ কিছুক্ষণ মতবিনিময় করেন।









