হাজতখানায় সেই তুফান সরকারের সঙ্গে পরিবারের সাক্ষাৎ, এটিএসআই প্রত্যাহার

বগুড়া প্রতিনিধি
০৩ মার্চ ২০২৫, ২০:২৬আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৫, ২০:২৬

বগুড়ায় আদালতের নারী হাজতখানায় আলোচিত বহিষ্কৃত শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকারের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ করার সুযোগ দেওয়ার ঘটনা নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। আইনজীবী সহকারীসহ চার স্বজনকে আটক করে ৫৪ ধারায় আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলায় আদালত পুলিশের এটিএসআই জয়নাল আবেদীনকে পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সোমবার বিকালে বগুড়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) হোসেন মো. রায়হানকে প্রধান করে তিন সদস্যদের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুমন রঞ্জন সরকার জানান, সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করায় ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বগুড়া শহর শ্রমিক লীগের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক তুফান সরকার শহরের চকসুত্রাপুর এলাকার মৃত মজিবর রহমানের ছেলে। তুফান হত্যা, ধর্ষণ, ছিনতাই, মাদকসহ ১৭ মামলার আসামি। তার বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে কলেজে ভর্তির নামে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং মাসহ মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া ও নির্যাতনের ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সে সময় জেল সুপারের কক্ষে তুফানের সঙ্গে ধর্ষণের শিকার নারীকে একান্তে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে পত্রিকায় লেখালেখি হয়।

বিদ্যুতের একটি মামলার ধার্য তারিখে তুফান সরকারকে সোমবার বিকালে বগুড়া কারাগার থেকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দোতলায় হাজতে নেওয়া হয়। এরপর তাকে নারী হাজতখানায় রেখে দরজা কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। ভেতরে আইনজীবী সহকারী, তুফানের স্ত্রী, বোনসহ কয়েকজন ছিলেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে আদালতপাড়ায় হুলুস্থুল পড়ে যায়। পরে তুফান সরকারকে প্রিজন ভ্যানে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ছাড়া তুফানের স্ত্রী, আইনজীবী সহকারীসহ চার জনকে আটক করে ৫৪ ধারায় আদালতে চালান দেওয়া হয়।

বগুড়ার কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর মোসাদ্দেক হোসেন সাংবাদিকদের জানান, হাজতখানার চাবি এটিএসআই জয়নাল আবেদীনের কাছে ছিল। বিদ্যুৎ মামলার আসামি তুফান সরকারকে দুপুরে কারাগারে না পাঠিয়ে নারী হাজতখানায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়। বিষয়টি আদালতের অগোচরে ঘটে।

২০১৭ সালে এক ছাত্রীকে কলেজে ভর্তির নামে বাড়িতে নিয়ে তুফান সরকার ধর্ষণ করে। পরে তার স্ত্রী, পৌর কাউন্সিলর শ্যালিকা ও অন্যরা মাসহ ওই ছাত্রীকে মারপিট করে। এক পর্যায়ে নাপিত ডেকে মা ও মেয়েকে মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। এ নিয়ে সারা দেশে সমালোচনা শুরু হলে পুলিশ তুফানকে গ্রেফতার করে। ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর পরিবার থানায় তুফানসহ ৯-১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। সে সময় কারাগারে জেল সুপারের কক্ষে তুফানের সঙ্গে ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর সাক্ষাৎ, জেলের দর্শনাথী কক্ষে স্যালাইন পাইপের মাধ্যমে ফেনসিডিল সেবন এবং বাইরে থেকে কারাগারে তুফানের কাছে ফেনসিডিল পাঠানোর ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল। এরপর তুফানকে কাসিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়। আলোচিত তুফান সরকারের বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা রয়েছে। গত ৫ আগস্টের পর তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা হয়। গত ২৫ ডিসেম্বর ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

/এমএএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম