তনুর লাশ উত্তোলনের আদেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে তার পরিবার। তাদের বক্তব্য, প্রথমে গুরুত্ব দিয়ে লাশের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত করলে এখন লাশ নিয়ে টানা-হেঁচড়া করতে হতো না।
তনুদের চাচা আলাল হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, ‘মৃত্যুর পরও মেয়েটিকে কষ্ট দেওয়া হচ্ছে। লাশ নিয়ে টানাটানি করা হচ্ছে। শুরুতেই বিষয়টাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হলে এখন আর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।’
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর হত্যাকাণ্ডের ৮ দিন পর সোমবার মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ, সুরতহাল তৈরি ও পুনঃময়নাতদন্ত করতে কবর থেকে লাশ উত্তোলনের আদেশ দিয়েছে কুমিল্লার একটি আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি একেএম মনজুর আলমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বিকালে আদালত এ আদেশ দেন।
নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে তনুর কবরের পাশে পাহারায় রয়েছে একদল পুলিশ। লাশ উত্তোলনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কুমিল্লা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফুন নাহারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফুন নাহার বলেন, আমি প্রস্তুত রয়েছি। নির্দেশনা পেলে লাশ উত্তোলন করা হবে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত কোনও নির্দেশনা পাইনি। আজ মঙ্গলবার বা কাল বুধবার লাশ উত্তোলন হতে পারে।
এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ তনু মঞ্চে অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ভিক্টোরিয়া কলেজ কর্তৃপক্ষ তনুর আত্মার মাগফেরাত কামনায় কলেজে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে।
পরিবারের সূত্র জানায়, গত ২০ মার্চ রাতে তনুকে সেনানিবাস এলাকায় হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ২১ মার্চ সন্ধ্যায় তনুকে তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে দাফন করা হয়। এ বিষয়ে তার পিতা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী ইয়ার হোসেন ২১মার্চ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার ৯দিনেও পুলিশ অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারেনি।
/জেবি/টিএন/








