গত পাঁচ বছরের সব থেকে খারাপ ফলাফল দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫৭ দশমিক ৪৯। জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৬ হাজার ২৬০ জন। এবারে অংশগ্রহণকারী ১ লাখ ৩ হাজার ৮৩২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬০ হাজার ৮৮২ জন পাস করেছে।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মহা. তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারে এই শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল সব দিক দিয়েই খারাপ হয়েছে। পাসের হার কমেছে, জিপিএ-৫ কমেছে, শতভাগ পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে, বেড়েছে শূন্য শতাংশ বা কেউই পাস করেনি এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা।
পরিসংখ্যানে জানা যায়, গত বছর এই শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। ২০২৩ সালে ছিল ৭৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ, ২০২২ সালে ৭৯ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৯২ দশমিক ৪৩ শতাংশ পাসের হার ছিল।
এ ছাড়াও গত বছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ২৯৫ জন, ২০২৩ সালে ছিল ৬ হাজার ৪৫৯ জন, ২০২২ সালে ছিল ১১ হাজার ৮৩০ জন এবং ২০২১ সালে ছিল ১৫ হাজার ৩৪৯ জন।
রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার মোট ৬৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। এইসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৩টি কলেজ থেকে কেউই পাস করতে পারেনি। গত বছরে এর সংখ্যা ছিল ২০। ২০২৩ সালে ছিল ১৬টি, ২০২২ সালে ছিল ১৩টি এবং ২০২১ সালে ছিল ২টি।
আর শতভাগ পাস করছে ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গত বছর এর সংখ্যা ছিল ১৫টি। ২০২৩ সালে ছিল ১৩টি, ২০২২ সালে ছিল ২৪টি এবং ২০২১ সালে ছিল ৫৩টি।
এবারে পাসের হার এবং জিপিএ-৫ উভয়েই এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। এই বোর্ডে মেয়েদের পাসের হার ৬১ দশমিক ৯২ জন আর ছেলেদের হার ৫২ দশমিক ৬৫ শতাংশ। মোট জিপিএ-৫ পাওয়া ৬ হাজার ২৬০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মেয়েরা জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৪৮৬ জন এবং ছেলেরা পেয়েছে ২ হাজার ৭৭৪ জন।
এবারে পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে রংপুর জেলা। এই জেলার পাসের হার ৬৮ দশমিক ২৯ শতাংশ আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৬২৬ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা নীলফামারী জেলার পাসের হার ৬১ দশমিক ৭৩ শতাংশ আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৮১ জন। তৃতীয় অবস্থানে থাকা গাইবান্ধা জেলার পাসের হার ৫৬ দশমিক ২৬ শতাংশ আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৭১ জন। চতুর্থ অবস্থানে লালমনিরহাট জেলার পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৯৬ জন। পঞ্চম অবস্থানের দিনাজপুর জেলার পাসের হার ৫৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৩১ জন।
ষষ্ট অবস্থানে থাকা ঠাকুরগাঁও জেলার পাসের হার ৫২ দশমিক ৯৩ শতাংশ আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩০৭ জন। সপ্তম অবস্থানের কুড়িগ্রাম জেলার পাসের হার ৫২ দশমিক ২৭ শতাংশ আর পাসের হার ৩৩৫ জন। সর্বশেষ অষ্টম অবস্থানে থাকা পঞ্চগড় জেলার পাসের হার ৪৩ দশমিক ১৯ শতাংশ আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১৩ জন।
কথা হলে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মহা. তৌহিদুল ইসলাম জানান, ৪৩টি কলেজের কেউই পাস করেনি, এটি পুরো ফলাফলের উপর প্রভাব ফেলেছে। ওই ৪৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কেন কেউই পাস করেনি সেটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।









