রায়কে স্বাগত জানিয়ে রাজশাহীতে রাকসু-এনসিপির মিছিল

রাজশাহী প্রতিনিধি
১৭ নভেম্বর ২০২৫, ২০:৪০আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২৫, ০০:০৫

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডের রায়কে কেন্দ্র করে রাজশাহী মহানগর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মিষ্টি বিতরণ করেছে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিকালে রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট এলাকায় এনসিপির নেতৃবৃন্দ সাধারণ মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন– এনসিপি রাজশাহীর নগরীর আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী, সদস্যসচিব আতিকুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ারুল হক রবিন, রাজশাহী জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী নাহিদুল ইসলাম সাজুসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।

এ সময় এনসিপির নেতারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে রায় দ্রুত কার্যকর করতে হবে।’

মিষ্টি বিতরণের সময় এনসিপির নেতাকর্মীরা ‘শেখ হাসিনা স্বৈরাচার, দিল্লি তুমি পাহারাদার’ স্লোগান দিতে থাকেন।

রায়ে উল্লাস প্রকাশ করে মিষ্টি বিতরণ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) অন্যদিকে, একই রায়ের প্রতি সন্তুষ্টি জানিয়ে রাজশাহী-৫ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম ও তার সমর্থকরা আনন্দ মিছিল বের করেন। পুঠিয়া পৌরসভা থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুঠিয়া ত্রিমোহনীতে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে বিএনপি নেতারা রায়কে ‘ন্যায়বিচারের প্রতিফলন’ বলে মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ে উল্লাস প্রকাশ করে মিষ্টি বিতরণ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিকালে রাকসু ভবনের সামনে থেকে এই মিষ্টি বিতরণ শুরু করেন তারা। পরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে শিক্ষার্থীদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করেন তারা।

সরেজমিন দেখা যায়, রাকসুর ভিপি, জিএসসহ অন্য প্রতিনিধিরা নিজ হাতে শিক্ষার্থীদের মিষ্টি খাইয়ে দিচ্ছেন। উপস্থিত শিক্ষার্থীরাও হাসিমুখে মিষ্টি খাচ্ছেন।

রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘একজন রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে একজন শিক্ষক পর্যন্ত সব শ্রেণির মানুষকে শেখ হাসিনা হত্যা করে পালিয়ে গেছেন। এই খুনি হাসিনার বিরুদ্ধে আজকে যে রায় দেওয়া হয়েছে, সেই রায় আমরা চাই যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন হোক। দেশের সাধারণ মানুষের জন্য এটি একটি বড় অর্জন হয়ে থাকার পাশাপাশি ইতিহাস হয়ে থাকবে, ইনশাআল্লাহ। এই রায় যেভাবে আমাদের আনন্দিত করছে, এর বাস্তবায়ন আমাদের আরও বেশি আনন্দিত করবে, ইনশাআল্লাহ।’

রাকসু’র জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘১৭ বছরের জমানো আঘাতের রায় আজকে এসেছে। আবরার ফাহাদ, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাহবাগ কায়েম করা এবং সর্বশেষ জুলাই হত্যাকাণ্ড এগুলো এক একটা ক্ষত, যার রায় আজ এসেছে। ১৬ কোটি মানুষের এখন একটাই ডিসিশন, তা শেখ হাসিনার ফাঁসি। আমার ব্যক্তিগত কথা বললে, আমার মতো শত শত পরিবার আছে যাদের নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এখন আমরা চাই, অনতিবিলম্বে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে এনে তার ফাঁসি কার্যকর করা হোক। ‘

/এমএএ/
সম্পর্কিত
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
‘পাটওয়ারীর ওপর হামলার জন্য মোড়ে মোড়ে অবস্থান নেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা’
হাদির প্রকৃত হত্যাকারীরা কোন রাজনৈতিক দলের, পরিচয় প্রকাশ করুন: নাসীরুদ্দীন
সর্বশেষ খবর
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে