সৌদি সরকারের ‘কিং সালমান হিউম্যানিটেরিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার’ থেকে পাঠানো উপহারের প্রায় দেড় টন (১৯২ কার্টন) খেজুর কুড়িগ্রামে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংশ্লিষ্ট শাখা সূত্র জানায়, বুধবার ১৯২ কার্টন খেজুর গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতি কার্টনে ৮ কেজি করে মোট ১ হাজার ৫৩৬ কেজি খেজুর পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে প্রাপ্ত খেজুরগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনুকূলে উপবরাদ্দের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শাখা সূত্র আরও জানায়, জেলার ৯ উপজেলার ৭৩ ইউনিয়ন এবং ৩ পৌরসভায় নীতিমালা অনুসরণ করে খেজুরগুলো বিতরণ করা হবে।
কারা পাবেন এই খেজুর
জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সাধারণত সৌদি আরব সরকার বা অন্য কোনও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে পাওয়া উপহারের খেজুর বাংলাদেশে দুস্থ, এতিমখানা এবং আপদকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণের নীতিমালা অনুসরণ করে।
মার্চ ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, কিং সালমান হিউম্যানিটেরিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারে পাঠানো খেজুর বিতরণের ক্ষেত্রে নিচের নীতিমালা ও নিয়মাবলী অনুসরণ করা হবে।
খেজুর বিতরণ নীতিমালা ও নিয়মাবলি (মার্চ ২০২৬ আপডেট)
বরাদ্দ প্রক্রিয়া: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় খেজুরের মোট পরিমাণ জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কার্যালয়ে বরাদ্দ করে এবং জেলাভিত্তিক বণ্টনের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর নির্দেশিকা পাঠায়।
বণ্টন পদ্ধতি: জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পাওয়া খেজুর উপজেলার জনসংখ্যার অনুপাতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর পাঠানো হয়।
টার্গেট গ্রুপ বা সুবিধাভোগী:
মূলত এতিমখানা, বোর্ডিং বা দুস্থদের মাঝে বিতরণের জন্য এই খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা বা দুস্থ জনগোষ্ঠীকে দেওয়া হয়।
স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক বিতরণ: উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)-এর মাধ্যমে তালিকা অনুসরণ করে খেজুর বিতরণ করা হয়।
হিসাব সংরক্ষণ: উপজেলা বা জেলা পর্যায়ে কতটুকু খেজুর পেল এবং কতটুকু বিতরণ করা হলো, তার হিসাব বাধ্যতামূলকভাবে স্থানীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ে সংরক্ষণ করা হয়।
কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, ‘প্রাপ্ত খেজুরের উপবরাদ্দ প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের অনুমোদন পেলে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় পাঠানো হবে।’
প্রসঙ্গত, 'কিং সালমান হিউম্যানিটেরিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার' থেকে চলতি বছর বাংলাদেশে মোট ১২ হাজার ৫০০ কার্টন খেজুর উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে সারা দেশের ত্রাণ গুদামে সেগুলো পাঠানো হয়েছে।









