জ্বালানি তেল সংকটের প্রভাব পড়েছে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলের বাণিজ্যে। এ কারণে বেনাপোলে আমদানি-রফতানি পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরে পণ্য পরিবহনে গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। সবচেয়ে বেশি ভাড়া বেড়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটে। পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় জিনিসপত্রের দামও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিন বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট এলাকায় গিয়ে জানা গেছে, বেনাপোল থেকে ঢাকায় আগে ট্রাক ভাড়া ছিল ২৩ থেকে ২৪ হাজার টাকা। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে সেই ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা। চট্টগ্রাম রুটে ১৫ টন পণ্য পরিবহনে আগে গুনতে হতো ৩০-৩৫ হাজার টাকা ভাড়া। এখন তা হয়েছে ৪০-৪২ হাজার টাকা পর্যন্ত। এতে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, এ কারণে উৎপাদিত পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। তেলের পাশাপাশি ট্রাক সংকটেও অনেকে আমদানি করা পণ্য খালাস নিতে পারছেন না।
বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী বলেন, ‘বেনাপোল স্থলবন্দরে দুটি ইউনিয়নে প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক প্রতিদিন পণ্য খালাসের কাজ করে থাকেন। গত ২ এপ্রিল থেকে তেল সংকটের অজুহাতে ট্রাক ভাড়া বৃদ্ধি করায় অনেকে আমদানি করা মালামাল খালাস নিচ্ছেন না। প্রতিদিন যেখানে ৭শ থেকে ৮শ ট্রাক পণ্য লোড-আনলোডিং হতো, এখন তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের শ্রমিকদের পেটে হাত পড়বে। অনেকে বেকার হয়ে পড়বেন। দ্রুত এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।’
ট্রাকচালক আরিফ বিল্লাহ বলেন, ‘সরকার বলছে, পর্যাপ্ত তেল মজুত আছে, পাম্পে গেলে পাওয়া যাচ্ছে না। মাঝেমধ্যে যা পাওয়া যাচ্ছে তাতে দূরপাল্লার মালামাল বহন করা দুষ্কর হয়ে পড়ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ট্রাক ভাড়া বেড়েছে ৭-৮ হাজার টাকা। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের ট্রাক নিয়ে বাড়ি বসে থাকা ছাড়া উপায় দেখছি না।’
আব্দুল মতিন নামে আর এক চালক ট্রাকভাড়া বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আসলে দেশে তেলের তেমন সমস্যা নেই। পর্যাপ্ত তেল নিয়েই ট্রাকগুলো চলাচল করছে। তেল সংকটের অজুহাতে ট্রাকের ভাড়া বাড়িয়েছেন মালিকপক্ষ।’
বেনাপোল ট্র্যান্সপোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি আতিকুজ্জামান সনি বলেন, ‘দেশে পেট্রোল-অকটেনের কিছুটা সমস্যা রয়েছে। কিন্তু ডিজেলের কোনও সমস্যা নেই। তারপরও নির্দিষ্ট সময়ে তেল না পাওয়ার প্রভাব ভাড়াতে পড়তে শুরু করেছে। পাম্পে চাহিদার অর্ধেক তেল পাওয়া যাচ্ছে। এতেই সমস্যা তৈরি হচ্ছে।’
বেনাপোল ল্যান্ড পোর্ট ইমপোর্টার অ্যান্ড এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মতিয়ার রহমান বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল। প্রতিদিন এই বন্দর দিয়ে সাড়ে ৩শ থেকে ৪শ ট্রাক পণ্য আমদানি এবং আড়াই থেকে ৩শ ট্রাক পণ্য রফতানি হয়ে থাকে। তেল সংকটের কারণে আমদানি-রফতানি পণ্য আমরা দেশের বিভিন্ন জেলা ও দেশের বাইরে পাঠাতে পারছি না। তেলের দাম না বাড়লেও ট্রাকমালিকরা হঠাৎ করে গত এক সপ্তাহ ধরে ভাড়া বাড়িয়েছেন ৭-৮ হাজার টাকা। এতে ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। তারা বলেছেন, ট্রাকভাড়া বাড়ার কারণে তাদের পণ্যের দামও বাড়াতে হবে। যার প্রভাব ভোক্তার ওপর গিয়ে পড়ছে।’
এ ব্যাপারে যশোর চেম্বার অব কমার্সের যুগ্ম সম্পাদক ও আমদানিকারক এজাজ উদ্দিন টিপু বলেন, ‘বাজারে তেলের কোনও সংকট নেই। কিছু অসাধু মানুষ তেল মজুত করছে। যে কারণে গ্রাহক সামলাতে পাম্পগুলো হিমশিম খাচ্ছে। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ট্রাকভাড়া বাড়িয়েছেন মালিকরা। এতে সব জিনিসের দাম বেড়ে যাবে। যার প্রভাব পড়বে ভোক্তার ওপর।’
বেনাপোল শাহজালাল ফিলিং স্টেশনের পরিচালক ইয়ান আলী জানান, চাহিদার অর্ধেক তেলও পাচ্ছেন না তারা। যতটুকু পাচ্ছেন প্রশাসনের সহযোগিতায় সঠিকভাবে বণ্টন করছেন।









