
বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ বেঞ্জ ও পোরশেসহ বিলাসবহুল গাড়ির মালিকদের খুঁজছেন শুল্ক গোয়েন্দারা। একইসঙ্গে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধ উপায়ে রাখা বিলাসবহুল শতাধিক গাড়ির সন্ধানেও মাঠে নেমেছেন তারা। গত এক বছরে কোটি টাকা মূল্যের সাতটি বিলাসবহুল গাড়ি উদ্ধার করতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অবৈধ উপায়ে রাখা বিলাসবহুল গাড়ির মালিকদের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকি ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। সর্বশেষ গত ৮ এপ্রিল শুক্রবার শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের অফিসিয়াল ফেসবুকে প্রায় ছয় কোটি টাকা মূল্যের একটি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ির ছবি দিয়ে এর সন্ধান চেয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শুল্ক গোয়েন্দারা জানান, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উপায়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশে নিয়ে আসা কোটি টাকা মূল্যের শতাধিক গাড়ির সন্ধানে শুল্ক গোয়েন্দারা মাঠে নেমেছেন। বিদেশি পর্যটকদের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় বিদেশ থেকে গাড়ি আনার যে সুযোগ রয়েছে, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এসব দামি বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে। নিয়মানুযায়ী এসব গাড়ি পর্যটকদের জন্য ‘কার্নেট ডি প্যাসেজ’ সুবিধায় বাংলাদেশে এনে আবার বাইরে ফেরত নিয়ে যাওয়ার কথা। ঢাকাসহ সারাদেশেই তারা বিলাসবহুল গাড়ি আটকের অভিযান জোরদার করেছেন। এরপরই অবৈধ উপায়ে রাখা গাড়িগুলোর বেশির ভাগই লুকিয়ে ফেলেছেন মালিকরা।
শুল্ক গোয়েন্দাদের এ অভিযানে সহায়তা করছেন পুলিশ ও র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও। এসব বাহিনীর গোয়েন্দা ইউনিটের সদস্যরাও অবৈধভাবে রাখা দামি গাড়িগুলোর সন্ধানে মাঠে নেমেছে। এরইমধ্যে গাড়ির মালিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সরকার নির্ধারিত শুল্ক না দিলে গাড়ির মালিক ও রক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ৬ এপ্রিল গুলশান-১ এলাকা থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের পোরশে (Porsche) জিপ জব্দ করেন শুল্ক গোয়েন্দারা। ৩৩ নম্বর রোডের তার্কিশ হোপ স্কুলের পেছনের ১০ নম্বর বাড়ি থেকে ওই গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। প্যাসিফিক গ্রুপের মালিক শফিউল আজম মহসিন শুল্ক ফাঁকি দিয়ে কারনেট সুবিধায় গাড়িটি বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। বৃটিশ রেজিস্ট্রেশন প্লেট (SF05 AUM) ব্যবহার করে গাড়িটি ব্যবহার করে আসছিলেন এক মডেল।
এর একদিন আগে গুলশান-২ এর ১০৪ নম্বর রোডের বাসিন্দা কাজী রেজাউল মোস্তাফার ৫ (জি) নম্বর বাড়ি থেকে একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি উদ্ধার করা হয়। শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়িটি এনে অবৈধভাবে ভুয়া দলিল দাখিল করে বিআরটিএ থেকে রেজিস্ট্রেশনও নেওয়া হয়েছে। গাড়ি নম্বর ঢাকা মেট্টো-ঘ-১৪-০৩৪৩।
শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের সিলেট অঞ্চলের সহকারী পরিচালক প্রভাত কুমার সিংহ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, গোপনসূত্রে সংবাদ পেয়ে তারা সিলেট শহরের আম্বরখানা এলাকার বিএম টাওয়ারে অভিযান চালান। এর আগে গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে সেখান থেকে মার্সিডিজ বেঞ্জ (ঢাকা-৬১৪/ও) গাড়ির ছবিও তারা নিয়েছিলেন। শুক্রবার অভিযান শুরুর আগ মুহূর্তে গাড়িটি সরিয়ে ফেলা হয়। তিনি জানান, গাড়ির মালিক আবদুল মালেক লন্ডন প্রবাসী। তার সঙ্গেও কথা হয়েছে। গাড়িটি তাদের কাছে হস্তান্তরের জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়। এর মধ্যে গাড়ি না দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুল্ক অধিদফতরের এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা আরও জানান, গাড়িটি উদ্ধারে তাদের সঙ্গে অভিযানে অংশ নিচ্ছে পুলিশ ও র্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। একইসঙ্গে অধিদফতরের অফিসিয়াল ফেসবুকে গাড়িটির সন্ধানে অনুরোধ জানানো হয়েছে। যারা গাড়িটির সন্ধান দেবেন তাদের পুরস্কৃত করা হবে বলেও জানান তিনি। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা গাড়িটির বিআরটিএর রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে জালিয়াতির মাধ্যমে।
শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘কার্নেট ডি প্যাসেজ’ এর সুবিধায় নিয়ে আসা শতাধিক দামি বিলাসবহুল গাড়ি দেশের রাস্তায় চলাচল করছে বলে তাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। ওই অনুযায়ী অভিযান চালাচ্ছেন তারা। গত এক বছরে এ ধরনের সাতটি বিলাসবহুল গাড়ি তারা উদ্ধার করতে পেরেছেন। অন্যগুলো উদ্ধারে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
মইনুল খান আরও বলেন, অভিযান জোরদার করার পর অনেকেই এসব বিলাসবহুল গাড়ি লুকিয়ে ফেলেছেন। অনেক মালিক গা ঢাকা দিয়েছেন। লুকিয়ে ফেলা গাড়ি উদ্ধার ও মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তারা। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকি ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
/জেইউ/এএইচ/








