বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘অতীতে শুধু রাজনীতির কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষকতা পেশায় আসতে পারেননি। তাই ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ হবে সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে।’
শুক্রবার রাতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো স্যোসাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রাম উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘শিক্ষকতার চেয়ে মহান পেশা আর কিছু হতে পারে না। এই পেশার মাধ্যমে আমরা আমাদের জ্ঞানকে একদল তরুণের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারি। তারা আবার এটাকে পৃথিবীময় ছড়িয়ে দিতে পারেন। আমার পেশা জীবনের শুরু শিক্ষকতা দিয়ে এবং কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করলে আমি নিঃসংকোচে বলতে পারবো, জীবনে আমি সবচেয়ে উপভোগ করেছি শিক্ষকতা পেশাটাকেই।’
এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে শিক্ষার মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। কোনোভাবেই এই বিশ্ববিদ্যালয় যেন গতানুগতিক একটা প্রতিষ্ঠান না হয়ে একটা বিশ্বমান অর্জন করতে পারে এবং দরিদ্র অনুন্নত এই জনপদটি যেন শিক্ষানগরের খ্যাতি অর্জন করতে পারে সে বিষয়ে শিক্ষক নির্বাচনে মেধাকে গুরত্ব দেওয়াসহ সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেই আমি বিশ্বাস করি।
‘শুধু লেখাপড়া নয় , ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় হবে গবেষণা ও জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র আর তাকে ছড়িয়ে দিতে হবে সবখানে।’
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইস্রাফীল শাহীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন– সম্মানিত অতিথি ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন এবং ইএসডিওর নির্বাহী পরিচালক ড. মুহাম্মদ শহীদ উজ জামান।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম বলেন, ‘একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা একটা বিরাট শ্রমসাধ্য এবং সময়সাপেক্ষ জটিল কর্মযজ্ঞ। সেরকম একটা বিরাট কাজে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং এই বছরেই তার ভর্তি শুরুর কাজটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। এ পর্যন্ত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্যারের হাত ধরে এ কাজটি দ্রুততার সঙ্গেই এগিয়ে চলেছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জন্য একটা চমৎকার জায়গা নির্ধারণ হয়েছে এবং মাত্র দেড় মাসের মধ্যে প্রসংশনীয় তৎপরতায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এগিয়ে চলেছে। মঞ্জুরি কমিশন এ কাজটিতে সব ধরনের সহযোগিতা করে আসছে এবং তারা তা করে যাবে।’









