জাটকা সংরক্ষণ ও মা ইলিশ রক্ষায় বুধবার (৭ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। তবে নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। কয়েক দিন আগে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ ও হিজলা এলাকার কয়েকজন জেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আগামী ২২ দিন আবার দেখা হবে’সহ নানা হুমকি দিয়ে পোস্ট দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে রায়পুর উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ে জনবল সংকটও রয়েছে। এ অবস্থায় ডাকাত ও জলদস্যুদের অপতৎপরতা প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি নদীতে টহল ও নজরদারি জোরদারের জন্য বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে রায়পুর ও মজুচৌধুরীর ঘাটসংলগ্ন মেঘনা নদী এলাকায় ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের সময় জলদস্যু ও ডাকাত চক্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সার্বক্ষণিক টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।
লক্ষ্মীপুর জেলা ও রায়পুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নদীতে মৎস্য বিভাগ, প্রশাসন, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হবে। জেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৫৪ হাজার। তারা মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে ৪২ হাজার ১৫০ জনকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে ১১ হাজার ৮৫০ জেলে এখনো ভিজিএফের চাল পাচ্ছেন না। পর্যায়ক্রমে তাদের খাদ্য সহায়তার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।
লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার মেঘনা নদী এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাত, মজুত ও বিক্রি নিষিদ্ধ থাকবে।
জেলেদের সচেতন করতে নদী ও উপকূলবর্তী এলাকায় মাইকিং, পোস্টারিংসহ বিভিন্ন প্রচারণা চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। নিষেধাজ্ঞার সময়ে ৪২ হাজার ১৫০ জেলে পরিবারকে এক হাজার ৫৩ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন ভিজিএফের চাল দেওয়া হবে। প্রতিটি পরিবারকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।
তবে জেলেরা বলছেন, নিবন্ধিত জেলের তুলনায় সরকারি খাদ্য সহায়তার পরিমাণ কম। নিষেধাজ্ঞার সময়ে প্রকৃত জেলেদের সঠিক তালিকা করে দ্রুত তাদের খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
লক্ষ্মীপুরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নদীতে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা ও জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হবে। জেলেদের ২৫ কেজি করে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। এরপরও কেউ আইন অমান্য করে নদীতে মাছ ধরতে গেলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযান সফলভাবে পরিচালনা করা গেলে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
রায়পুর কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, আধুনিক সক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ ও উচ্চগতির স্পিডবোটের মাধ্যমে নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক রাডার, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে উপকূলীয় ও সমুদ্রসীমায় চলাচলকারী বিভিন্ন জলযান এবং সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর নজরদারি রাখা হচ্ছে।
দেশের সমুদ্র, নদীপথ ও উপকূলীয় অঞ্চলকে ডাকাত ও জলদস্যুমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে কোস্টগার্ড।