শিক্ষার্থীদের গালমন্দ ও মারধরের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই স্কুলশিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জে প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে মামলা করায় অভিযুক্ত স্কুলশিক্ষক হাবিবুল্লাহকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার মহজমপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাঞ্ছারামপুর উপজেলার পাহাড়িয়াকান্দি ইউনিয়নের কলাকান্দি এইচ.কে আসমাতুননেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে বুধবার এসব ঘটনা ঘটে।
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার সোনারগাঁও উপজেলার মহজমপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকের বেত্রাঘাতে ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক হাবিবুল্লাহকে সাময়িক বরখাস্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে ওই স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ‘খ’ শাখায় এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হারুনুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, মহজমপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক হাবিবুল্লাহ বুধবার দুপুরে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র ক্লাস নিচ্ছিলেন। এসময় কয়েকজন শিক্ষার্থী পড়া না পাড়ায় তিনি ছাত্রদের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন এবং তার কাছে প্রাইভেট না পড়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এসময় ক্লাসের ১০ শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করে আহত করেন। পরে স্কুলের শিক্ষকরা ওই শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়।
আরও পড়ুন:
রানীনগরে জেএমবি সদস্য আনোয়ার গ্রেফতার
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে এলাকাবাসী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষককে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে স্কুল মাঠে বিক্ষোভ করে। পরে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাছের ভূঁঞা, সোনারগাঁ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস এম আবু তালেব ও সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক তদন্ত হারুনুর রশিদ ঘটনাস্থলে গিয়ে সঠিক বিচারের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা শান্ত হন।
মহজমপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাছের ভূঁঞা বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক হাবিবুল্লাহকে স্কুলে থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, জেলার বাঞ্ছারামপুরের পাহাড়িয়াকান্দি ইউনিয়নের কলাকান্দি এইচ.কে আসমাতুননেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়া না শেখায় ১০ ছাত্রীকে বেত ও কাঠের কঞ্চি দিয়ে পেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মোহাম্মদ আলী। বুধবার দুপুরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি ।
অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী ওই স্কুলের গণিত বিষয়ের শিক্ষক।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ছিদ্দিকুর রহমান জানান, ক্লাসে ছাত্রীদের পেটানোর ঘটনা তদন্ত করতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তে ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৮ এপ্রিল পড়া না শেখার অজুহাতে অষ্টম শ্রেণির ১০ ছাত্রীকে পিটিয়ে আহত করা হয়। এদের মধ্যে দুইজন অজ্ঞান হয়ে যায়। ঘটনাটি জানতে পেরে অভিভাবকরা এর প্রতিবাদ করলে স্কুল কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নেয়।
/এনএস/টিএন/
আপ: এইচকে








