বিগত পৌর নির্বাচন নিয়ে বিভক্ত খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরম রূপ নিয়েছে। প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে অহরহই হামলা-পাল্টা হামলা, মামলা-পাল্টা মামলা চলছে। দুই গ্রুপের কোন্দলে শহরজুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে এবং এর জন্য উভয় পক্ষ পরস্পরকে দায়ী করছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জেরে দুই ভাগে বিভক্ত হয় জেলা আওয়ামী লীগ। প্রথম গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। আরেক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক মো. জাহেদুল আলম। পৌর নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের ছোট ভাই রফিকুল আলম বিপুল ভোটে মেয়র পদে জয়ী হওয়ার পর এই বিরোধ রূপ নিয়েছে সভাপতি গ্রুপ বনাম মেয়র গ্রুপের মধ্যে।
এদিকে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হামলা-পাল্টা হামলায় গত তিন মাসে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। মামলা হয়েছে ২০টির মতো। থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে অন্তত ১৫টি। প্রতিদিনই চলছে শক্তি প্রদর্শনের মহড়া। এসব ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নগরবাসী। ঘটনার জন্য দুগ্রুপই দায়ী করছে পরস্পরকে।
জেলা আওয়ামী লীগের (কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা গ্রুপ) সিনিয়র সহ-সভাপতি রণ বিক্রম ত্রিপুরা শহরে সব সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য মেয়র রফিকুল আলমকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, তাদের অনেক নেতা-কর্মীকে হামলা ও আহত করেছে মেয়র গ্রুপের ক্যাডারেরা। মেয়রের সন্ত্রাসী গ্রুপের কারণে আতঙ্কে আছে নগরবাসী।
আরও পড়ুন:
চুল কাটার দায় এড়াতে কৌশলে শিক্ষার্থীদের মাথা ন্যাড়া!
খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র মো.রফিকুল আলম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর আও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হেনস্তার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তার কোনও ক্যাডার বাহিনী নেই উল্লেখ করে সন্ত্রাসী বাহিনী লালন করার জন্য তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে দায়ী করেন এবং সন্ত্রাসীদের বিচার দাবি করেন।
আরও পড়ুন:
আ. লীগের ভাবনা: বিএনপিকে ছাড়াই আগামী নির্বাচন!
এ প্রসঙ্গে খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ সুপার মো. মজিদ আলী বলেন, বিগত সময়ে জেলা আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে যে সব আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড হয়েছে এ জন্য মামলা হয়েছে। পুলিশ সেগুলো তদন্ত করে দেখছে। দোষীদের বিরূদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
/এফএস/ এপিএইচ/








