ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে ভারি বর্ষণ ও জোয়ারের পানির চাপে বেড়িবাঁধ ভেঙে ভেতরে পানি ঢুকে অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। চরাঞ্চলসহ জেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অন্তত তিন লাখ মানুষ। বেড়িবাঁধের বাইরে ও ভেতরে জলাবদ্ধতার ফলে পাচঁ শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বিপুল গবাদিপশুর প্রাণহানির সঙ্গে সঙ্গে ভেঙেছে হাজার হাজার গাছপালা।
এদিকে শনিবার সকালে ঘূর্নিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে ঝড়ো বাতাসে পটুয়াখালী দশমিনা উপজেলার উত্তর লক্ষ্মীপুর এলাকার লিজাবাদ গ্রামে ঘরচাপায় নয়া বিবি (৫২) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজহারুল ইসলাম জানান, সদর ইউনয়নের লক্ষ্মীপুর এলাকায় ঝড়ো বাতাসে ২৫টি বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এসময় ঘর চাপায় নয়া বিবি নামের এক নারীর মৃত্যু হয়। আহত হন বেশ কয়েকজন।
ঝড়ের কবলে পড়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত অর্ধশত মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সাগর রয়েছে উত্তাল। নদ-নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে তিন থেকে চার ফুট উঁচু পানিতে তলিয়ে গেছে জেলার নিম্নাঞ্চল। তলিয়ে গেছে মাছের ঘের, রবিশস্যের মাঠ। বিদ্যুৎ সংযোগ হয়ে পড়েছে বিচ্ছিন্ন। গ্রাম তলিয়ে যাওয়ায় অধিবাসীরা আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে।
জেলার মূল ভূ-খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চর রাঙ্গাবালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বেড়িবাঁধের বাইরের অন্তত দুই শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তপন কুমার ঘোষ। এদিকে কুয়াকাটা-সোনারচর সংলগ্ন দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর উত্তাল হওয়ায় বড় বড় ঢেউ উপকূলে আছড়ে পড়ছে। পানিবন্দি হয়ে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যহত হয়ে পড়েছে।
জোয়ারের পানির তোড়ে জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের বউ বাজার, লঞ্চঘাট, আন্ডার চর এবং বড়বাইশদিয়া এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। গলাচিপার রতনদী তালতলী এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে ৫টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দ্বিতীয় দিনের মত সব ধরনের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে।
নদী ও সাগরে মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে জেলেরা দশমিনা, কলাপাড়া, কুয়াকাটা, রাঙ্গাবলীর উপকূলের বিভিন্ন স্থানে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। কলাপাড়া উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের দেবপুর, মহিপুর ইউনিয়নের নিজামপুর ও লালুয়া ইউনিয়নের চারীপাড়া এলাকায় ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ দিয়ে গ্রামের মধ্যে পানি ঢুকে ১০ গ্রামের কয়েক শ’ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুন্দ্রা কালিকাপুর, ডোমরা, ভিখাখালী, আন্দুয়া ও পিঁপড়াখালী এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে জলাবদ্ধতায় অন্তত ১৫ গ্রাম প্লাবিত হয়ে কয়েক শ’ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়াও জেলার সর্বত্রই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা প্রশাসক এ কে এম শামিমুল হক সিদ্দিকী জানান, রোয়ানুর প্রভাবে দশমিনায় ঘর চাপা পড়ে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে বেশ কিছু মানুষ। বেড়িবাঁধ ভেঙে কিছু গ্রাম তলিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে কি পরিমাণ ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের তালিকা পাঠাতে বলেছি।
কলাপাড়া রাডার ষ্টেশন সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১২টা থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত রোয়ানু
/এইচকে/








