বরিশালের বাবুগঞ্জে কলেজছাত্র রাকিবের চোখ তুলে নেওয়ার মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবনসহ ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আনিসুর রহমান মামলার ১০ জন সাক্ষীর মধ্যে থেকে ৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহন শেষে আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় প্রদান করেন। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৩ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
রায়ে মামলার প্রধান আসামি মাসুদ আলম মৃধাসহ অপর আসামি কালাম মৃধা, কামাল হাওলাদার, মেহেদী হাসান রাজুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ২ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি অপর একটি ধারায় চারজনের প্রত্যেককে ১ মাস করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
এছাড়া মামলার অন্য আসামি সায়েম ফরাজী, আরিফ মৃধা, আ. হালিম ঘরামি, মো. তুষার, সিরাজ বয়াতিকে পৃথক দুই ধারায় ১ বছর ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মোক্তার হোসেন, শফিউল আলম শামিম, ইমরুল ফরাজীকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ কে এম জাহাঙ্গীর জানান, ২০১৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাতে বাবুগঞ্জের বাহেরচর এলাকার বাসিন্দা মাসুদ মৃধার ভাই রফিকুল ইসলামকে বাজারে বসে মারধর করে অজ্ঞাতরা। এ ঘটনায় রফিকুল ইসলামের ভাই মাসুদ মৃধা একই এলাকার বাসিন্দা সেলিম হাওলাদারের ছেলে বাবুগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের ছাত্র রাহাত রেজা ওরফে রাকিবকে সন্দেহ করেন।
এর জের ধরে ঘটনার দুই দিন পর দুপুরে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে চরকান্দা মরাডাঙ্গীর খাল-গোড়ায় পৌঁছালে মাসুদ মৃধা তার সহযোগীদের নিয়ে রাকিবকে মারধর করে পার্শবর্তী নির্জন স্থানে নিয়ে তার দুটি চোখ উপড়ে ফেলেন। এসময় রকিবের চিৎকারে রাকিবের পরিবারের লোকজনসহ স্থানীয়রা ছুটে এলে মাসুদ মৃধা তার সহযোগীদের নিয়ে চলে যান।
পরে এ ঘটনায় রাকিবের বাবা সেলিম হাওলাদার বাদি হয়ে বাবুগঞ্জ থানায় দ্রুত বিচার আইনে ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর মাসুদ মৃধাকে প্রধান আসামি করে মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাবুগঞ্জ থানার এস আই আবু জাফর হাওলাদার একই বছরের ১৩ নভেম্বর মামলার এজাহারভুক্ত ১১ আসামিদের অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
- বায়তুল মোকাররমের খতিব হতে আলেমদের দৌড়ঝাঁপ
- ক্রসফায়ারের মধ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে: মেনন
/এমও/








