কীর্তনখোলা নদীতে লঞ্চ ও স্টিমার সংঘর্ষের ঘটনায় বরিশাল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৭-সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিতে বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (সার্বিক) প্রধান করে প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিআইডাব্লিউটিএ, বিআইডাব্লিউটিসি ও সিভিল সার্জন দফতরের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আগামি তিন দিনের মধ্যে এই কমিটিকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশালের জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান।
ঢাকা থেকে বিআইডাব্লিউটিসি’র যাত্রীবাহী স্টিমার পিএস মাহসুদ এর সঙ্গে বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সুরভী-৭ লঞ্চের সংঘর্ষে ৫ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে ২ জন নারী এবং ৩ জন পুরুষ। নিহতদের মধ্যে মোড়লগঞ্জের সীমা আক্তার (২০) ও বরিশাল নগরের কাউনিয়া ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জামাল উদ্দিনের মেয়ে তামান্না’র (১২)পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকিদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
আহতদের মধ্যে বরিশাল নগরের কাশিপুর এলাকার কালু (৩০), মোড়লগঞ্জের ফারজানা (১৯),বাগেরহাটের শাকিল সর্দার (২১), রুবেল (২২) ও চাঁদপুরের নুরুল ইসলামকে (৫০) বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স ও সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য সোমবার সকাল ৪টার দিকে ঢাকা থেকে ৫ শতাধিক যাত্রী নিয়ে পিএস মাহসুদ বরিশাল নদীবন্দর থেকে ৪/৫ কিলোমিটার দূরে মধ্যচরবাড়িয়া অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা সুরভী-৭ লঞ্চটির সংঘর্ষ হয়।
সুরভী-৭ লঞ্চটি বরিশালে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে ডাবল ট্রিপ দেওয়ার জন্য ঢাকা যাওয়ার পথে এর গলুই স্টিমারটির মাঝের অংশে আঘাত করে। এতে স্টিমারের নীচ তলার ৪টি ক্রু কেবিন, প্যাডেল ও উপর তলার একটি বিলাস কেবিন বিধ্বস্ত হয়।
ফায়ার সার্ভিস-এর বরিশাল স্টেশন অফিসার ফারুক আহমদ জানান, স্টিমার পি এস মাহসুদ-এর নীচ তলায় বিধ্বস্ত ক্রু কেবিনগুলো গ্যাস কাটার দিয়ে কেটে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।
বরিশালের জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান এবং মেট্রপলিটান পুলিশ কমিশনার এস এম রুহুল আমিন ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্টিমার পিএস মাহসুদ-এর মাস্টার জয়নুল আবেদীন দুর্ঘটনার জন্য সুরভী-৭ লঞ্চের মাস্টারকে দায়ি করে বলেন, তিনি নৌ-পথের সিগনাল অমান্য করেছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, চরবাড়িয়া এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা সুরভী-৭ লঞ্চটি এক টানা হর্ন দেয়। নৌ আইন অনুযায়ী এক টানা হর্ন দিলে নৌ যানগুলো যে যার ডান দিক থেকে চলবে। হর্ন অনুযায়ী স্টিমারটি ডান দিকে গেলেও লঞ্চটি তার দিক পরিবর্তন না করেই স্টিমারটিকে ধাক্কায় দেয়। এতে স্টিমারের বামপাশের প্যাডেলসহ ডেকের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া কয়েকটি কেবিন যাত্রীসহ দুমড়ে মুচরে যায়। জাহাজটি চলাচলে অক্ষম হয়ে পড়লে ওই স্থানেই নোঙর করে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।
বরিশাল বিআইডাব্লিউটিসি’র সহকারি মহা ব্যবস্থাপক আবুল কালাম জানান, ঘটনার পরপরই আহত পাঁচজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো কেটে নিহত ৫ জনের মরদেহ বের করেছে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
তিনি আরও জানান, স্টিমারটিতে ৭শ’ যাত্রী ছিল। তাদের উদ্ধার করে সরকারি যাত্রীবাহি জাহাজ এমভি মধুমতির সাহায্যে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তবে রুবেল নামে আহত এক যাত্রী জানিয়েছেন জাহাজটিতে প্রায় দেড় থেকে ২ হাজার যাত্রী ছিল।
রাত থেকে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণ উদ্ধার কাজ অনেকটা বিলম্বিত হয়েছে। উদ্ধার অভিযানের শেষে দুর্ঘটনা কবলিত স্টিমার পিএস মাহসুদকে উদ্ধারকারী জাহাজ ’দূর্বারে’র মাধ্যমে টেনে সকাল ৯টা নাগাদ বরিশাল স্টিমার ঘাটে নিয়ে আসা হয়।
দুর্ঘটনার পর সুরভী-৭ লঞ্চটি ঢাকামুখী যাত্রা অব্যাহত রেখেছে বলে নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যাবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক ও বরিশাল নৌবন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন : বেনাপোলে বাড়তি সতর্কতা, ইমিগ্রেশনে কড়াকড়ি








