বরিশালের কোতোয়ালী থানায় এজাহারভুক্ত একটি মামলার আসামি শাহাদৎ শৈশবকে (২১) জিজ্ঞাসাবাদের নামে থানায় নিয়ে নির্যাতন করা হয়। এরপর নির্যাতনের সময় চিৎকারের রেকর্ড মোবাইলে পরিবারের সদস্যদের শুনিয়ে ঘুষ দাবি করার অভিযোগ ওঠে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার অভিযোগে ওই এসআইকে ক্লোজড করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, নির্যাতিত শৈশবের বোন মোসাম্মাত সুইটি উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) আ. রউফের কাছে লিখিত অভিযোগ করার পর রবিবার রাতে এসআই আব্দুল মান্নানকে কোতোয়ালী মডেল থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে আ. রউফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এসআই মান্নানকে ক্লোজড করা হয়েছে। অভিযোগের তদন্ত করা হবে ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার এসআই আব্দুল মান্নানকে এ ব্যাপারে মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৩১ জুলাই রবিবার দুপুর ১২টার দিকে এসআই আব্দুল মান্নানসহ ৫-৬ জন পুলিশ নগরীর মুসলিম গোরস্তান রোডের বাসা থেকে শৈশবকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।
পরবর্তীতে শৈশবের বোন মো. সুইটি তার মা ও খালাকে সঙ্গে নিয়ে থানায় আসলে দেখতে পান এসআই মান্নান তার রুমে বসে শৈশবকে অমানবিক নির্যাতন করছেন।
শৈশবের ওপর এ নির্যাতন দেখে তার মা অজ্ঞান ও বোন কান্নাকাটি শুরু করলে এসআই মান্নান তাদেরকে গালিগালাজ করে থানা থেকে বের করে দেন ।
থানা থেকে কিছু দূর যাত্তয়ার পর তাদের মোবাইলে একটি নাম্বার থেকে দেওয়া কল রিসিভ করলে, তারা শৈশবের চিৎকার এবং তার প্রাণ বাঁচানোর আকুতি শুনতে পান। পরে তারা আবারও থানায় ছুটে আসলে আব্দুল মান্নান শৈশবকে আরও নির্যাতন করবেন বলে জানান।
একথা শুনে তারা থানা থেকে বের হয়ে কিছুটা পথ আসতে না আসতে একই নম্বর দিয়ে কল দেওয়া ফোন রিসিভ করলে, আবারও শৈশবের চিৎকার শুনিয়ে নির্যাতন বন্ধের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ দাবি করে ফোন কেটে দেওয়া হয়।
শৈশবের বোন এ ব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ করলে এসআই মান্নানকে ক্লোজড করা হয়।
আরও পড়ুন: জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে শাবি শিক্ষার্থী আটক
/এআর/








