নৌ-শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের ডাকে ধর্মঘটের কারণে বরিশাল নৌবন্দরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে। ১৫ দফা আদায়ের দাবিতে মঙ্গলবার ভোর থেকে শুরু হওয়া শ্রমিকদের বাধার মুখে অভ্যন্তরীণ রুটের কোনও লঞ্চ ছেড়ে যায়নি। এতে বিশেষ করে চরম দুর্ভোগে পড়েছে নদী-বিচ্ছিন্ন এলাকার অভ্যন্তরীণ সাধারণ যাত্রীরা।
অনির্দিষ্টকালের জন্য ডাকা ধর্মঘটের ফলে বরিশাল থেকে লাইটার জাহাজ,কার্গো জাহাজেরও মাল ওঠা-নামা বন্ধ রয়েছে।
নৌ-বন্দর নির্ভর দিন মজুর, হকার, দোকানদার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং সাধারন যাত্রীরা জানান, ধর্মঘট স্থায়ী হলে সবচেয়ে দুর্ভোগের শিকার হবেন তারা।
এদিকে মধ্যরাত থেকে ধর্মঘট শুরু হলেও বরিশালে তা কার্যকর মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে। আগে থেকে কোনও ধরনের প্রচার-প্রচারণা না থকার কারণে ভোর রাতে নৌবন্দরে আসা মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, মজু চৌধুরীর হাটসহ অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীরা ঘাটে এসে নৌ-ধর্মঘটের কথা শুনে বেকায়দায় পড়েন। এছাড়াও বিপাকে পড়েছেন আগে থেকেই লঞ্চের টিকিট অগ্রীম সংগ্রহ করে রাখা ঢাকাগামী যাত্রীরা।
সেক্ষেত্রে লঞ্চ না ছাড়লে যাত্রীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি লঞ্চ-কর্তৃপক্ষও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হবে বলে জানান কেন্দ্রীয় লঞ্চ -মালিক সমিতির সহসভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই নৌ-শ্রমিকরা ঘাটে লঞ্চগুলো পল্টুনে বেধে রেখে বেশ কয়েকবার বিক্ষোভ করেছে। এসময় ঝালকাঠী থেকে ছেড়ে আসা জাতীয় পার্টির নেতা সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপুর মালিকানাধীন এম.ভি ফারহান-৮ নামে একটি লঞ্চ বরিশাল ঘাটে ভিড়তে চাইলে বিক্ষোভরত শ্রমিকরা বাধা দেয়। তখন ঘাটে থাকা নৌ পুলিশ তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরে বরিশাল নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ. মোতালেব ঘাটে এসে বিক্ষোভকারী নৌ-শ্রমিকদের পল্টুন ছেড়ে তাদের অফিসে ফিরে যেতে বললে শ্রমিকরা পল্টুন ত্যাগ করেন।
নৌ-পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কোনও লঞ্চ বন্দর ছেড়ে যেতে চাইলে, সেক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। ঘাটে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না।
জেলা নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে-স্কেল ঘোষণায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নৌযান শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির জন্য দীর্ঘদিন থেকে তারা আন্দোলন করে আসছেন। এ বিষয়ে গত জুলাই মাসে শ্রমিক, মালিক ও নৌ এবং শ্রম মন্ত্রণালয় সমবেত এক বৈঠক হয়। এসময় নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান শ্রমিকদের নূন্যতম ৯ হাজার টাকা বেতন এবং মাস্টার ও সুকানীদের জন্য বেতন স্কেল দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন।
অথচ ১৬ জুলাই নৌযান মালিক পক্ষ এই বেতন কাঠামোর বিপরীতে উচ্চ আদালতে রিট করে স্থগিত আদেশ আনলে তাদের দাবি বাস্তবায়নে সংকটের সৃষ্টি হয়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সোমবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে সারাদেশে নৌযান শ্রমিকদের কর্ম-বিরতির ডাক দিয়েছেন বলে জানান জেলা নৌযান শ্রমিক ফেডারেশেনের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক একিন আলী মাস্টার।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় লঞ্চ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু জানান, শ্রমিকদের অযৌক্তিক দাবি আর বাড়তি বেতন দিয়ে আমাদের পক্ষে লঞ্চ চালানো সম্ভব হবে না। এ কারণে বর্ধিত বেতনের বিষয়ে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়েছে।
আরও পড়ুন: মংলা বন্দরে পণ্য খালাস ও বোঝাই বন্ধ
/এআর/








