পটুয়াখালীতে টানা বৃষ্টিতে আমন ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
০৭ নভেম্বর ২০১৬, ১৮:৫৭আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০১৬, ১৮:৫৭





পটুয়াখালীতে তিন দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ায় শীতকালীন সবজি ও আমনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আধাপাকা ও পাকা আমন ও সবজি বাগান মাঠে নুয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও আমন ধানের গাছ ও সবজি বাগান পানিতে তলিয়ে গেছে। পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেন। পটুয়াখালীতে-ঝড়ে-আমন-ধানের-ব্যাপক-ক্ষতি
সূত্র জানান, পটুয়াখালী জেলায় চলতি মৌসুমে ২ লাখ ১০হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ করা হয়েছে। কিন্তু এরমধ্যে ৫২ হাজার ৫৮৫ হেক্টর জমির বাড়ন্ত আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও শীতকালীন শাক-সবজি তিন হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এক হাজার ৪১২ হেক্টর শাক-সবজি।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার কমলাপুর এলাকার কৃষক জাকির হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তার প্রায় ২ একর জমির অধিকাংশ’ ধান টানা বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসের ফলে ভেঙে পানির মধ্যে নুয়ে পড়েছে। ভেঙে পড়া ধান গাছে ধান চিটা হয়ে যাবে।
গলাচিপা উপজেলার কৃষক মো. জয়নাল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঝড়ো-হাওয়ায় ক্ষেতের ধান ঝরে পড়ে গেছে আর সবজি পানিতে পচে নষ্ট হয়ে গেছে ।
গলাচিপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গলাচিপায় এবছর আমনের ফলন হয়েছে ৩৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে এর মধ্যে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় ক্ষতির শিকার হয়েছে ৭ হাজার ৮শ’ হেক্টর জমির ফলন। ১ হাজার ২শ’ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ করা হয়েছে যার মধ্যে ৫৫ ভাগ ফলন সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জীব মৃধা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সদর উপজেলায় এবছর আমন ও সবজির ফলন হয়েছে ২৮ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে এর মধ্যে বৃষ্টি ও ঝড়োহাওয়ায় ৭ হাজার হেক্টর জমির ফলন ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পটুয়াখালী দশমিনা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা বনি আমিন খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দশমিনা উপজেলায় আমন ধান ১৮ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে ও ৩৬৫ হেক্টরে সবজি ফলন হয়েছে। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় ৪ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমির ধান হেলে পড়েছে। পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় সদ্য বের হওয়া ওই ধান চিটা হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, পাকা ধানগুলোর ক্ষতির সম্ভাবনা খুব কম। তবে যেসব ধান গাছের ফুল বা আধা-পাকা অবস্থায় রয়েছে সেগুলো মাটিতে শুয়ে পড়ায় প্রচুর পরিমাণে চিটা বা পচে যাওয়ার শংকা রয়েছে।
এ ব্যাপারে পটুয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক নজরুল ইসলাম মাতুব্বর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিতে যে সব কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে সেসব জমি থেকে নালা কেটে পানি সরিয়ে দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সূর্যের আলো পড়লে ধান গাছগুলো আবার ঠিক হয়ে যেতে পারে। এসব কারণে শতকরা ৫ শতাংশ’ ক্ষতি হতে পারে। এ ছাড়া বর্ষা পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত রবি মৌসুমের ফসল আবাদ না করারও পরামর্শ’ দেওয়া যাচ্ছে।
/এইচকে/আপ-এআর/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
একদিনে হামে আর ৪ মৃত্যু
একদিনে হামে আর ৪ মৃত্যু
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ইউজিসি-ইউএন উইমেন উদ্যোগ
বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ইউজিসি-ইউএন উইমেন উদ্যোগ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী