মিটার রিডারদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন নলছিটির পৌর এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। বৈদ্যুতিক মিটারের রিডিং না দেখেই মাসের পর মাস বিল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে মিটার রিডারদের ‘চা-পান খাওয়ার টাকার ফাঁদেও নাকাল গ্রাহকরা। বাড়ছে বিদ্যুতের সিস্টেম লসও। গ্রাহকদের ঘাড়ে গিয়ে পড়ছে ওভার রিডিংয়ের ‘ভুতুড়ে’ বিল। গ্রাহক হয়রানিও দিন দিন বেড়েই চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও হয়রানির শিকার গ্রাহকরা প্রতিকার পাচ্ছেন কমই। নলছিটি বিদ্যুৎ অফিস এ পরিস্থিতির দায় চাপাচ্ছে অস্থায়ী মিটার রিডারদের ওপর।
গ্রাহকদের অভিযোগে জানা গেছে, নলছিটি উপজেলার পৌর এলাকায় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের আওতায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক সাড়ে নয় হাজার গ্রাহক রয়েছেন। তাদের বিদ্যুতের মিটারের রিডিং নেওয়ার জন্য মিটার রিডার রয়েছেন মাত্র দু’জন। এর বাইরে চুক্তিভিত্তিক আরও ছয় জন মিটার রিডার কাজ করেন ওই দু’জনের সঙ্গে।
গ্রাহকরা বলছেন, মিটার রিডারদের চাহিদা অনুযায়ী ‘ঘুষ’ না দিলে পড়তে হয় ‘ভুতুড়ে’ বিলের খপ্পড়ে। আবার কোনও কোনও গ্রাহকের সঙ্গে রয়েছে মিটার রিডারদের ‘সুসম্পর্ক’ যার কল্যাণে ওইসব গ্রাহকদের বিল হয় মিটারের রিডিং থেকে অনেক কম। অভিযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে গেলেও খুব একটা প্রতিকার পাওয়া যায় না বলেই মিটার রিডারদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।
পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড মালিপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘গত দুই মাস ধরে মিটারের রিডিং না দেখেই বিল করা হচ্ছে। কখনও কখনও মিটারের বিল দেখতে এলে আবার ‘চা-পান খাওয়ার টাকা’ দাবি করেন। তা না দিলেই বিল হয়ে যায় মাত্রাছাড়া।’’
২নং ওয়ার্ড নাংগুলী গ্রামের গ্রাহক ফেরদাউস উদ্দিন ও সেলিম খান অভিযোগ করেন, মিটার রিডার ওমর আলী জুন মাসে বিল করতে গিয়ে সরাসরি ঘুষই চেয়ে বসে। তার সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় বিলের পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। শুধু তাই নয়, ওই ভুয়া ও ভুতুড়ে বিল নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে অভিযোগ করলেও বিদ্যুৎকর্মীরা তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ ফেরদাউস ও সেলিমের।
গ্রাহকদের এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নলছিটি বিদ্যুৎ অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অনেক সময় রিডিং চেক করার সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মিটারের সঠিক রিডিং আনা সম্ভব হয় না। তবে মিটার না দেখে বিল করাটা অন্যায়।’ এসব অভিযোগের দায় অস্থায়ী মিটার রিডারদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘অস্থায়ী মিটার রিডার দিয়ে কাজ করার কারণে এসব সমস্যা হচ্ছে।’ তবে রিডিং নিয়ে গ্রাহকের অভিযোগ সঠিক প্রমাণিত হলে বিল সংশোধন করে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
/টিআর/
আরও পড়ুন- বন্যা নয়, প্যানিক সৃষ্টি করছে মিডিয়া : সিরাজগঞ্জের ডিসি








